9.4 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে দেশের নাগরিক সমাজ। এই সিদ্ধান্তকে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনের পথে একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে একশনএইড বাংলাদেশ, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির অবনতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, ডিজেল ও কয়লার দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে দেশে লোডশেডিং বেড়েছে, শিল্প-কারখানা, কৃষি ও পরিবহনখাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরকে একমাত্র টেকসই সমাধান হিসেবে তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সৌর, বায়ু ও বায়োগ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এ খাতে দীর্ঘদিন যথাযথ বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে একটি সুস্পষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান।
এক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাত ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তাদের প্রস্তাবিত রূপরেখায় উল্লেখযোগ্য দিকগুলো, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। রুফটপ সোলার, ব্যাটারি স্টোরেজ ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে শুল্ক মওকুফ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল বাড়িয়ে বিশেষ রিভলভিং ফান্ড গঠন।
সোলার সেচ ব্যবস্থার জন্য আলাদা প্রণোদনা, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি ও বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন। সরকারি জমিতে নবায়নযোগ্য প্রকল্পে পিপিপি মডেল বাস্তবায়ন। অর্থনৈতিক দিক থেকেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
পাশাপাশি সেচ ও পরিবহন খাতে সৌর ও বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আরও শত কোটি ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। বক্তারা বলেন, এই রূপান্তর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম এবং চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন খান। এ ছাড়াও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই লক্ষ্য অর্জনে তারা সরকারের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে দ্রুত একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
শেষে বক্তারা বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ শুধু একটি লক্ষ্য নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
এম.কে

আরো পড়ুন

শহীদ হাদির জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবন এলাকায় জনস্রোত

হুন্ডি বন্ধ হলে রেমিট্যান্সে বদলে যাবে বাংলাদেশ, বছরে প্রবাসী আয় ৫০ বিলিয়ন করা সম্ভব

শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারতের জন্য জটিলতা তৈরি করেছেঃ শশী থারুর