ব্রিটেনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বাড়াচ্ছে দেশটির হোম অফিস। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন আর্থিক শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়মে লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসের জীবনযাত্রার ব্যয় বাবদ ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ডের সমপরিমাণ অর্থের প্রমাণ দেখাতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লন্ডনে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নয় মাসের জীবনযাত্রার ব্যয় বাবদ ব্যাংকে মোট ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড থাকতে হবে। বর্তমানে এ পরিমাণ ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। অর্থাৎ, নতুন নিয়মে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বাড়ছে ৩৬৯ পাউন্ড।
অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নয় মাসের জীবনযাত্রার ব্যয় বাবদ ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড দেখাতে হবে। বর্তমানে এ পরিমাণ ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড। ফলে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থ বাড়ছে ২৮৮ পাউন্ড।
স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য দেখাতে হবে এমন অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, ভিসা আবেদনের ফি এবং ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জের (আইএইচএস) অতিরিক্ত। অর্থাৎ, এসব খরচের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।
আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় অর্থ টানা অন্তত ২৮ দিন ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। এই ২৮ দিনের হিসাবের শেষ দিনটি ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের আগের ৩১ দিনের মধ্যে হতে হবে। শিক্ষার্থীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাব ছাড়াও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাবা-মায়ের ব্যাংক হিসাব, অনুমোদিত শিক্ষাঋণ অথবা সরকারি ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে অর্থের প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে।
আবেদনের তারিখে যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসন অনুমতি নিয়ে অন্তত ১২ মাস ধরে বসবাস করছেন, তারা সাধারণত স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়া থেকে অব্যাহতি পান। তবে আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য অভিবাসন বিধি অনুযায়ী শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর ২০২৬ বা তার পরে জমা দেওয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনগুলোতে বাড়তি অর্থের শর্ত পূরণ করতে হবে। তাই ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভিসাসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিয়ে আগেই আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
এমকে

