17.8 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

৩২১ কোটি টাকার ট্যাব কেনায় অনিয়মের অভিযোগঃ মন্ত্রীর ভাইয়ের যোগসূত্র নিয়ে তোলপাড়

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রায় ৩২১ কোটি টাকার অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, পণ্যের দাম এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে প্রায় ২৬ হাজার হুইলচেয়ার আমদানি ও সেগুলোর মান যাচাই নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে বিএনপির স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ছোট ভাই এবং নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকতের নাম জড়ানো হয়েছে। 
২০২৬ সালের ১২ আগস্ট প্রকাশিত জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ৩২০ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার টাকার অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্যাবগুলো সরবরাহ করার জন্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, সোনাকান্দা, নারায়ণগঞ্জ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পে নৌবাহিনীর সঙ্গে বুরাক ব্রেক ও সেলেক্সট্রা নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাই লিয়াকতের ছেলে সরদার রাফিদ এস এ হোসেন ও মেয়ে অনিকা রাইদা লিয়ার অংশীদারত্ব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ট্যাবের মূল্য নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খুচরা বাজারে ২১ হাজার থেকে ৩৪ হাজার টাকায় পাওয়া যায়—এমন ট্যাব সরকারকে ৪৮ হাজার টাকা করে সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একটি চুক্তিতে ট্যাবের সরবরাহমূল্য ছিল ২৬ হাজার টাকা, অথচ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে একই পণ্য ৪৮ হাজার টাকা দরে বিক্রির হিসাব দেখানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৬৭ হাজার ট্যাব সরবরাহের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রায় ১০০ কোটি টাকা মুনাফা হতে পারে।
নৌবাহিনীর ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই সরাসরি প্রায় ৩৪২ কোটি টাকার কাজ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে হুইলচেয়ার আমদানির ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৬ হাজার হুইলচেয়ারের নমুনা পরীক্ষায় ৬৮ শতাংশে ত্রুটি পাওয়া গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান এসজিএসের ছাড়পত্র না থাকা সত্ত্বেও সেগুলো বাংলাদেশে আমদানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকত নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি—দলটির জেলা কমিটির তালিকায় তার নাম রয়েছে। সংবাদমাধ্যমেও তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। ভাইয়ের মন্ত্রীত্বের প্রভাব খাটিয়ে এই কাজ করায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।
সূত্রঃ জাগো নিউজ
এমকে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশে ছিলেন প্রসূতি বিশেষজ্ঞ, অস্ট্রেলিয়ায় এখন লন্ড্রিকর্মীঃ স্কিল্ড ওয়ার্কারদের বাস্তব চিত্র

নিউজ ডেস্ক

লাখো রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

নিউজ ডেস্ক

প্রধান উপদেষ্টা সুস্থ আছেন, গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ