19.4 C
London
April 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অ্যাসবেস্টস আতঙ্কে যুক্তরাজ্যে ৩০টির বেশি শিশুখেলনা প্রত্যাহার

অ্যাসবেস্টস একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক খনিজ তন্তু, যা শ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করলে ফুসফুসে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারসহ প্রাণঘাতী রোগের কারণ হতে পারে। এই কারণে যুক্তরাজ্যে যেকোনো পরিমাণ অ্যাসবেস্টসযুক্ত পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিশেষ করে শিশুদের খেলনায় এ ধরনের উপাদান পাওয়া গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে শিশুদের খেলনায় অ্যাসবেস্টস পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। খেলার বালুতে এই ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হওয়ার পর ৩০টিরও বেশি শিশুখেলনা বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মোমবাতি তৈরির কিট, রাবারের খেলনা এবং বিভিন্ন ক্রাফট সেট।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, হবিক্রাফট নামের একটি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বিক্রি করা খেলার বালুতে অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি রয়েছে। এরপর বিষয়টি সামনে আসতেই টেসকো, প্রাইমার্ক, মাতাল্যান এবং মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের মতো বড় খুচরা বিক্রেতারাও নিজেদের বিভিন্ন শিশু-পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, এসব খেলনায় ব্যবহৃত বালু চীনের এমন কিছু খনি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে অ্যাসবেস্টসের তন্তু বিদ্যমান। পাশাপাশি সেখানে পণ্যের লেবেলিং ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের নিয়ম তুলনামূলকভাবে কম কঠোর হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক গ্রাহক হবিক্রাফটের “জায়ান্ট বক্স অব ক্রাফট” সেটে থাকা রঙিন বালুর বোতলে অ্যাসবেস্টসের চিহ্ন শনাক্ত করলে প্রতিষ্ঠানটি তা বিক্রি থেকে সরিয়ে নেয়। যদিও প্রথমদিকে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেনি এবং গ্রাহকদের ক্ষতিরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর অফিস ফর প্রোডাক্ট সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করে এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাপদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। এরপর পরীক্ষাগারগুলোতে খুচরা বিক্রেতা ও প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার অনুরোধ জমা পড়ে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন “হুইচ?” বলেছে, গত তিন মাসে এত বিপুলসংখ্যক খেলনা প্রত্যাহার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা নির্দেশ করে।

সংগঠনটির ভোক্তা সুরক্ষা নীতির প্রধান সু ডেভিস বলেন, বিপজ্জনক পণ্য যাতে দোকানের তাক পর্যন্ত না পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অনলাইন মার্কেটপ্লেসেও একই ধরনের খেলনা বিক্রি হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে গত নভেম্বরেই একই ধরনের দূষিত খেলার বালুর কারণে সরকারি রিকল জারি করা হয়েছিল এবং কয়েকটি স্কুল ও নার্সারি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময়েও একই ধরনের পণ্য যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হচ্ছিল।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র দুই দিনের মধ্যে হবিক্রাফট জাতীয়ভাবে তাদের ক্রাফট বক্স প্রত্যাহার করে নেয়। গ্রাহকদের দূষিত বালুর বোতল দ্বিগুণ ব্যাগে সিল করে স্থানীয় কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেলে দিতে বলা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি বালুযুক্ত আরও চারটি ক্রাফট সেটও প্রত্যাহার করে।

এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসবেস্টসবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি উদ্যোগের অভাবেই বিষয়টি এতদিন নজরের বাইরে ছিল এবং সংবাদমাধ্যমের চাপ না থাকলে কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হতো না।

ব্রেক্সিট-পরবর্তী আইন পরিবর্তনের ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়াই নিষিদ্ধ করার সরকারি ক্ষমতা সীমিত হয়েছে। ফলে এখন পণ্য নিরাপদ কি না তা নিশ্চিত করার দায় মূলত প্রস্তুতকারক, রপ্তানিকারক এবং বিক্রেতাদের ওপরই বর্তায়।

পণ্য নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী কেট ডিয়ারডেন বলেছেন, অ্যাসবেস্টসযুক্ত খেলনা বিক্রি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার করতে সরকার নতুন ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং অ্যাসবেস্টস শনাক্ত হওয়া সব পণ্য দ্রুত বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া ও প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে গাড়ি রেইসিং ট্র‍্যাকে কিশোর নিহত

যুক্তরাজ্য এইবার সৈন্য পাঠাবে গাজায়

ইংল্যান্ডে আতংক ছড়াচ্ছে মাঙ্কিপক্স!

অনলাইন ডেস্ক