22.7 C
London
August 7, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আগামী এক দশকে ইউরোপের জ্বালানি শক্তিধর দেশ হতে পারে ব্রিটেন

আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে ব্রিটেন ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী জ্বালানি উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে বলে এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পারমাণবিক শক্তি, উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস, অফশোর বায়ুশক্তি, সৌরবিদ্যুৎ, আধুনিক বিদ্যুৎ সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে ব্রিটেনের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের জ্বালানি সংকটে থাকা দেশ হিসেবে ব্রিটেনের যে পরিচিতি ছিল, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেই চিত্র বদলে যেতে পারে। নিজস্ব উৎস থেকেই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বিদ্যুৎ রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রিটেনের জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থা পরিচালনাকারী সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি বার্ষিক হিসাবে বিদ্যুতের নিট রপ্তানিকারক হতে পারে। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটেনে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ধীরে ধীরে কমে ফ্রান্সের কাছাকাছি পর্যায়ে নেমে আসতে পারে এবং জার্মানি, ইতালি ও পোল্যান্ডের তুলনায় আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর সাগরের জ্যাকড ও রোজব্যাংক তেল-গ্যাসক্ষেত্র, নতুন ড্রিলিং প্রযুক্তি এবং উন্নত ভূকম্পন বিশ্লেষণ ব্যবস্থার কারণে ভবিষ্যতে আরও বেশি তেল ও গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে। এর ফলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পারমাণবিক জ্বালানি খাতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হিংকলি পয়েন্ট সি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি ছোট আকারের আধুনিক পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রোলস-রয়েস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী দশকের শুরুতে ব্রিটেন উন্নত পারমাণবিক জ্বালানির অন্যতম সরবরাহকারী দেশেও পরিণত হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরকারের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে অফশোর বায়ুশক্তি তিন গুণ, স্থলভাগের বায়ুশক্তি দ্বিগুণ এবং সৌরবিদ্যুৎ চার গুণ বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২০০ গিগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।

বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বৃহৎ ব্যাটারি নেটওয়ার্ক, পাম্পড হাইড্রো স্টোরেজ, উন্নত স্মার্ট গ্রিড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ চলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও ব্রিটেনে বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষণে এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্রিটেনের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৌরশক্তি উৎপাদনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। তবুও পারমাণবিক শক্তি, তেল-গ্যাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশটি আগামী এক দশকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান জ্বালানি শক্তিধর দেশে পরিণত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

বেনিফিট নিতে ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ড সীমান্তে মিথ্যা পরিচয়ে ঘুরছে অভিবাসীরা

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হারের রেট ৪.৭৫%-এ স্থির রাখার সিদ্ধান্ত

প্রিন্সেস ডায়ানার ‘গোপন কন্যা’ দাবি, হত্যাকাণ্ড ও মানসিক রোগে ভুগছিলেন হাবিবা নাভিদ