যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর এক নারী দাবি করেছেন, আট মিনিট ধরে ক্লিনিক্যালি মৃত থাকার সময় তিনি এমন এক জগতের অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন, যেখানে সময়ের অস্তিত্ব ছিল না। তার বিশ্বাস, মৃত্যু জীবনের চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়; বরং চেতনার প্রকাশের ধরন বদলে যায়। তবে তার এই অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত বর্ণনা, এর মাধ্যমে মৃত্যুর পর চেতনার অস্তিত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিয়ানা ল্যাফার্টি নামের ৩৩ বছর বয়সী ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে মায়োক্লোনাস ডিস্টোনিয়া নামের একটি বিরল স্নায়বিক রোগে ভুগছিলেন। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। তিনি জানান, ওই সময় তার মনে হয়েছিল, তিনি নিজের শারীরিক অস্তিত্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।
ব্রিয়ানা বলেন, তিনি নিজের শরীরকে আর অনুভব করছিলেন না। তবে তার দাবি, তখনও তিনি সচেতন ও জীবন্ত অনুভব করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই অভিজ্ঞতায় তিনি নিজেকে আগের চেয়েও বেশি সচেতন বলে মনে করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, চারপাশে অন্ধকারের মধ্যে একটি রহস্যময় কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছিলেন। এরপর তার আত্মা যেন শরীরের ওপর উঠে গিয়েছিল এবং এমন এক জগতে প্রবেশ করেছিল, যেখানে সময়ের প্রচলিত ধারণা কাজ করছিল না।
ব্রিয়ানার দাবি, ওই অভিজ্ঞতায় তিনি কোনো ব্যথা অনুভব করেননি; বরং গভীর প্রশান্তি ও মানসিক স্বচ্ছতা অনুভব করেছিলেন। তার মতে, মানুষের শারীরিক জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং ভঙ্গুর। একই সঙ্গে তিনি এমন এক উচ্চতর উপস্থিতি বা বুদ্ধিমত্তার অনুভূতির কথাও বলেছেন, যা মানুষের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা নিয়ে সবকিছু পরিচালনা করে বলে তার বিশ্বাস।
তিনি আরও দাবি করেন, সেই জগতে সবকিছু যেন একই সময়ে ঘটছিল, অথচ সেখানে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ছিল। তার ভাষায়, তিনি মহাবিশ্বের সূচনা সম্পর্কে উপলব্ধি পেয়েছিলেন এবং জানতে পেরেছিলেন যে মহাবিশ্ব অসংখ্য সংখ্যা দিয়ে গঠিত।
ব্রিয়ানা বলেন, সেখানে এমন কিছু সত্তার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল, যাদের মানুষ বলে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি। তবে তাদের পরিচিত বলে মনে হয়েছিল তার। ওই অভিজ্ঞতার পর জীবন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। আগে যেসব বিষয় তাকে ভয় দেখাত, সেগুলোর প্রভাব কমে আসে বলে তিনি জানান।
তার আরও দাবি, ওই জগতে চিন্তা বাস্তবতায় রূপ নেওয়ার মতো অনুভূতি হয়েছিল। নেতিবাচক চিন্তাকে ইতিবাচক চিন্তায় পরিবর্তন করার বিষয়ে তিনি নতুন উপলব্ধি পেয়েছেন বলেও জানান।
তবে এ অভিজ্ঞতার পর তার শারীরিক সুস্থতা ফিরে পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। ব্রিয়ানা জানান, তাকে আবার হাঁটা ও কথা বলার মৌলিক দক্ষতা অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে হয়েছে। তার দাবি, এ ঘটনার পর তার পিটুইটারি গ্রন্থিতেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়েছিল। পরে এ সমস্যার চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করা হয়, যা এখন পর্যন্ত সফল হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে তার। কারণ, আগের ঘটনার পর শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্লিনিক্যাল ডেথ বলতে সাধারণত হৃদস্পন্দন ও রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা বোঝানো হয়, যা কিছু ক্ষেত্রে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। মৃত্যুর কাছাকাছি অভিজ্ঞতার সময় আলো দেখা, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অনুভূতি কিংবা গভীর প্রশান্তির মতো অভিজ্ঞতার কথা অনেকে জানিয়েছেন। তবে এসব অভিজ্ঞতা মৃত্যুর পর আত্মা বা চেতনা টিকে থাকার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নয়।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

