ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতি ব্রিটেনের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সাতটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে অংশ নেন। ১০ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত জিবি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর এই বিবৃতি দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেন, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আদালতটির স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানান।
যৌথ বিবৃতিতে আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে তারা দুঃখিত এবং এর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করছেন। তাদের মতে, এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আদালতের কার্যক্রম, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আদালতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মার্কো রুবিও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে তার হুমকি বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আদালতটিকেই শেষ করে দেবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য হুমকি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আদালটিকে ধাপে ধাপে ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হবে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ বা সম্পত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার কিছু কঠোর ব্যবস্থা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে উদ্বেগ নিরসনের প্রস্তাব দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের অন্যতম কারণ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা। ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে ওই পরোয়ানা জারির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আদালতের নয়জন বিচারক ও চারজন কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছেন, আদালতটি আইন মেনে চলা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি তৈরি করছে। অন্যদিকে, মার্কো রুবিও আদালতটিকে একটি নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করেনি।
এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার খবর আসে। পিল্লাই ২০২৫ সালে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন। ওই কমিশন গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। পুরস্কার পাওয়ার পর পিল্লাই রসিকতা করে বলেন, আরও একটু বেশি হাততালি দেওয়া হলে তিনি পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থা রক্ষা, গুরুতর অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে একসঙ্গে কাজ করবেন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং যুদ্ধাপরাধসহ গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ, রয়টার্স।
এমকে

