17.1 C
London
August 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

আফগান নারীদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ঃ এভারেস্ট জয় করলেন জাকিয়া আহমেদ

আফগানিস্তানের নারীদের ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের বাস্তবতার মধ্যেও এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন আফগান পর্বতারোহী জাকিয়া আহমেদ। ‘রিভার’ নামে পরিচিত ৩১ বছর বয়সী এই অভিযাত্রী প্রথম আফগান নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

গত ২১ মে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ৮,৮৪৮ মিটার উচ্চতার এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান জাকিয়া। তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি আফগানিস্তানসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে নিপীড়ন, বৈষম্য ও বাধার মুখে সংগ্রামরত নারীদের জন্য আশা, সাহস ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাকিয়ার শৈশব কেটেছে আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশে। কৈশোর থেকেই তাকে সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হয়েছে। জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার একটি ছিল কাবুলগামী একটি বাসে তালিবান হামলা। ওই হামলায় বহু যাত্রী নিহত হন।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাকিয়া জানান, হামলার সময় প্রাণ বাঁচানোর জন্য তিনি নিজেকে মৃত বলে মনে হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। বাসের মেঝেতে নিথর হয়ে পড়ে থেকে তিনি হামলাকারীদের চোখ এড়িয়ে বেঁচে যান। সেই ঘটনা তার জীবনে গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করেছিল।

পরবর্তীতে পরিবারের এক প্রিয় ভাইকে হারানোর শোক এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হন। পরে অস্ট্রেলিয়ায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং নতুন জীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি মেলবোর্নের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠা এবং নিজের আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের পথ হিসেবে জাকিয়া বেছে নেন পর্বতারোহণ। ধীরে ধীরে কঠিন সব অভিযানে অংশ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের জন্য। এভারেস্ট অভিযানের আগে তিনি ফ্রান্সের মন্ট ব্লাঙ্ক, ভারতের নন্দা দেবী অঞ্চল এবং আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নওশাক (৭,৪০২ মিটার) সফলভাবে আরোহণ করেন।

জাকিয়া বলেছেন, এভারেস্ট জয় শুধু তার ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণ নয়; এটি সেই সব আফগান নারীদের উদ্দেশে একটি বার্তা, যাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলা এবং স্বাধীন চলাফেরার অধিকার নানা বিধিনিষেধের মুখে সীমিত হয়ে পড়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও নারীরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জাকিয়া আহমেদের এই অর্জন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে তার এভারেস্ট জয় কেবল একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়; এটি প্রতিরোধ, সাহস, মানবিক দৃঢ়তা এবং নারীর ক্ষমতায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ব্যক্তিগত ক্ষতি এবং মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া এক তরুণীর এভারেস্ট জয়ের গল্প আজ বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় দাঁড়িয়ে জাকিয়া আহমেদ প্রমাণ করেছেন— স্বপ্ন, সাহস ও অধ্যবসায়ের কাছে কোনো বাধাই অজেয় নয়।

সূত্রঃ ক্লাইম্বিং ম্যাগাজিন

এম.কে

আরো পড়ুন

ইরানের পারমাণবিক সাইট দখলের চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রেরঃ সামরিক পরিকল্পনা বিপজ্জনক

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষ

ইসরায়েলকে সতর্ক করল সৌদিঃ পশ্চিম তীর স্পর্শ করলে সম্পর্ক বিপন্ন