22.5 C
London
May 31, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন লন্ডন প্ল্যান, সহজ হচ্ছে নির্মাণ অনুমোদনের নিয়ম

রাজধানীতে আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি বাড়াতে লন্ডনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রধান নীতিমালা ‘লন্ডন প্ল্যান’-এ ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি হল। নতুন পরিকল্পনার আওতায় নির্মাণ সংক্রান্ত জটিলতা কমানো, নীতিমালাকে সহজ করা এবং আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সিটি হল জানিয়েছে, নতুন লন্ডন প্ল্যান চলতি গ্রীষ্মে প্রকাশ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে ২০২৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। পরিকল্পনা বিষয়ক ডেপুটি মেয়রের মতে, নতুন নথিটি ২০২১ সালের বর্তমান লন্ডন প্ল্যানের তুলনায় প্রায় অর্ধেক আকারের হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যমান পরিকল্পনায় অনেক অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও নীতির পুনরাবৃত্তি রয়েছে, যা আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব সৃষ্টি করছে। নতুন সংস্করণে এসব জটিলতা দূর করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে আরও সহজ ও কার্যকর করা হবে।

বর্তমানে গ্রেটার লন্ডন অথরিটি সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত গৃহনির্মাণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক ও স্বল্পমূল্যের আবাসন নির্মাণ বৃদ্ধি করা।

সিটি হলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নীতিমালার ফলে বিশেষ করে ছোট আকারের জমিতে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। পাশাপাশি নতুন ও উদ্ভাবনী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবাসন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।

পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সিটি হলের ক্ষমতা বৃদ্ধি। প্রত্যাখ্যাত পরিকল্পনা আবেদন পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কাউন্সিলের পরিবর্তে সিটি হলই নতুন আবাসন প্রকল্পের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন রাজধানীতে আবাসন নির্মাণের গতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হতে পারে।

২০২৪ সালে তৎকালীন আবাসন সচিব মাইকেল গভ বর্তমান লন্ডন প্ল্যানের সমালোচনা করে বলেন, পরিকল্পনাটি এতটাই জটিল যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। তার নির্দেশে পরিচালিত এক পর্যালোচনাতেও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।

যদিও পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে বর্তমান লেবার সরকার সেই পর্যালোচনা নির্দেশনা বাতিল করে এবং আবাসন সরবরাহ বাড়াতে লন্ডনের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক নতুন কর্মপদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে।

আবাসনবিষয়ক ডেপুটি মেয়র টম কপলি জানিয়েছেন, সম্প্রতি পাস হওয়া নতুন আইনের ফলে সিটি হল আরও সহজে বিভিন্ন নির্মাণ আবেদন নিজেদের অধীনে নিতে পারবে। একই সঙ্গে মেয়রের হাতে বিশেষ উন্নয়ন আদেশের মাধ্যমে সরাসরি পরিকল্পনা অনুমোদনের ক্ষমতাও ফিরে আসবে।

এদিকে পরিবহন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে অব্যবহৃত ও অনুন্নত বড় জমিগুলো চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এসব এলাকায় নতুন আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নতুন লন্ডন প্ল্যান রাজধানীতে আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণ এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের শিক্ষার্থীরা জিসিএসই পরীক্ষায় শীর্ষ গ্রেড পেয়েছেন

জনগণের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার কর্তৃক সহায়তা ফান্ডের ঘোষণা

যুক্তরাজ্যে বিনামূল্যে প্রাতঃরাশ চালুর পর অর্থায়ন ঘাটতির বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্কতা