9.4 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীর সংখ্যা ২ লাখ অতিক্রম করেছে

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা অভিবাসীর সংখ্যা ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ২ লাখ অতিক্রম করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ৭ মে পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৩ জন ছোট নৌকা ও ঝুঁকিপূর্ণ জলযান ব্যবহার করে ফ্রান্স উপকূল থেকে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। শুক্রবার ডোভারে নতুন করে কয়েক ডজন মানুষের আগমনের পর সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২ লাখ ছাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ বর্তমান লেবার সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, দেশের অভিবাসন ব্যবস্থা “সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে”।

তার অভিযোগ, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় আরও বেশি মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চ্যানেল পাড়ি দিতে উৎসাহিত হচ্ছে।

অভিবাসন সংকটের পাশাপাশি বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনাও। গত রোববার ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসেই আরও ছয়জন প্রাণ হারান। ফরাসি কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৫ সালেও অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চ্যানেল পারাপারের ঝুঁকি দিন দিন আরও বাড়ছে, কারণ ছোট নৌকাগুলোতে আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ বহন করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে প্রতি নৌকায় গড়ে ৭ জন থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ জনে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রতি নৌকায় গড়ে ৬৪ জন যাত্রী বহনের তথ্য পাওয়া গেছে।

চ্যানেল পারাপারের সংখ্যা প্রথমদিকে তুলনামূলক কম ছিল। ২০১৮ সালে মাত্র ২৯৯ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। তবে পরবর্তী কয়েক বছরে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৪৩ জনে, ২০২০ সালে ৮ হাজার ৪৬৬, ২০২১ সালে ২৮ হাজার ৫২৬ এবং ২০২২ সালে রেকর্ড ৪৫ হাজার ৭৭৪ জনে পৌঁছে। এরপর ২০২৩ সালে কিছুটা কমে ২৯ হাজার ৪৩৭ হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আবার বৃদ্ধি পায়।

ক্রমাগত সরকারগুলো ফ্রান্সের সঙ্গে সমন্বয় করে চ্যানেল পারাপার ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ প্যারিসের সঙ্গে তিন বছরের একটি নতুন চুক্তি করেন, যার আওতায় সমুদ্রসৈকত টহল ও সীমান্ত নজরদারি জোরদারে ৬৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড ব্যয় করা হবে।

একই সঙ্গে লেবার সরকার পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারের বিতর্কিত রুয়ান্ডা পরিকল্পনা বাতিল করেছে। ওই পরিকল্পনার অধীনে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর কথা ছিল। তবে পরিকল্পনা বাতিলের আগে মাত্র চারজন স্বেচ্ছাসেবককে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল।

এ নিয়ে বর্তমানে রুয়ান্ডার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আইনি বিরোধও চলছে। আফ্রিকার দেশটি দাবি করেছে, চুক্তি বাতিলের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য শর্ত ভঙ্গ করেছে এবং তাদের বিপুল অঙ্কের অর্থ পাওনা রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবপাচার চক্রের কারণে ইউরোপমুখী অভিবাসন বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাদের মতে, শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বরং নিরাপদ আশ্রয়প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

২০১৯ সালের আগস্টে ৩১ বছর বয়সী ইরানি নারী মিত্রা মেহরাদ ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময় ডুবে মারা যান। তাকে এই রুটে মৃত্যুবরণকারী প্রথম পরিচিত অভিবাসী হিসেবে ধরা হয়। এরপর থেকে চ্যানেলটি ইউরোপের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসনপথে পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

ইসরায়েলকে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্সের বিরল হুঁশিয়ারি

৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মন্দায় যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের বাজেটের বড় অংশ আসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিকট হতে