ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার ক্ষেত্রে কেয়ার কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময় কমানোর পরিকল্পনা করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি খাতে পাঁচ বছর কাজ করলে কেয়ার কর্মীরা আইএলআর পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ১৫ বছরের অপেক্ষার সময় থেকে পাঁচ বছর কমানোর সুযোগ পেতে পারেন। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের মতো সরকারি সেবায় কাজের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা কমানোর সুবিধা পেতে পারেন তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর ১ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২ নভেম্বর) বৈধ অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের নিয়ম নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এর আগে শাবানা মাহমুদের প্রাথমিক পরিকল্পনায় দক্ষ কর্মীদের জন্য আইএলআর পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর এবং কেয়ার কর্মীদের মতো স্বল্প বেতনের কর্মীদের জন্য ১৫ বছর করার প্রস্তাব ছিল।
তবে নতুন পরিকল্পনায় কেয়ার কর্মীদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খাতে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করা কোনো কেয়ার কর্মী ১৫ বছরের অপেক্ষার সময় থেকে পাঁচ বছর কমানোর সুযোগ পেতে পারেন। অর্থাৎ, এই সুবিধা কার্যকর হলে তাদের আইএলআর পাওয়ার অপেক্ষার সময় ১০ বছরে নেমে আসতে পারে।
এর আগে শাবানা মাহমুদের পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট সরকারি সেবামূলক পেশায় পাঁচ বছর কাজ করলে আইএলআর পাওয়ার নির্ধারিত সময় থেকে পাঁচ বছর কমানো যাবে। চিকিৎসক ও নার্সদের মতো কিছু পেশার কর্মীরা এ ধরনের সুবিধা পেতে পারেন।
এদিকে লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার আগের প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যে আসার পর বৈধ অভিবাসীদের জন্য নিয়ম পরিবর্তন করা ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী’। তার মতে, যারা ইতোমধ্যে ব্রিটেনে বসবাস করছেন, তাদের অবদানও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক পরিকল্পনা কার্যকর হলে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার স্বল্প বেতনের কেয়ার কর্মী এবং তাদের ৭৯ হাজার নির্ভরশীল সদস্যকে আইএলআর পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারত। লেবার পার্টির শতাধিক ব্যাকবেঞ্চ এমপি এবং কয়েকটি বড় ট্রেড ইউনিয়নও প্রস্তাবিত সংস্কারের বিরোধিতা করেছে।
তবে কেয়ার কর্মীদের আইএলআর সংস্কার থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দিলে করদাতাদের ওপর প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। শাবানা মাহমুদ এর আগে মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির (এমএসি) তথ্য উল্লেখ করে অভিবাসীদের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।
অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনক বলেছেন, গত পাঁচ বছরে ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ কঠিন করার পরিকল্পনা থেকে সরকারের সরে আসা উচিত নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ২ নভেম্বর হাউস অব কমন্সে সংশোধিত পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কেয়ার কর্মীদের জন্য চূড়ান্ত নিয়ম ও ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এমকে

