TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ইতালিতে বছরে ১০ হাজার বাংলাদেশির বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার কর্মী বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে গিয়ে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিবারসহ এই সংখ্যা প্রায় ১২ হাজারে পৌঁছায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ অভিবাসনের সুযোগ এবং অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, দালালের প্ররোচনায় সমুদ্রপথে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে যৌথ সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মশালায় সাধারণ মানুষকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রার বিপদ এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে জানানো হবে।

বৈঠকে ইতালির পক্ষ থেকে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিমন্ত্রীও সতর্ক করে বলেন, অবৈধ পথে যারা ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের নানা ধরনের আইনি জটিলতা ও দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে কর্মীদের বৈধ অভিবাসনের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দালালের চটকদার প্রলোভনে বিপুল অর্থ খরচ করে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত নিয়ম ও বৈধ কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুধু কর্মসংস্থান নয়, বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও ইতালির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, ইতালীয় ভাষা শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ কাজ করতে আগ্রহী।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইতালিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্দিষ্ট তালিকা পাঠানো হলে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের ইতালিতে প্রশিক্ষণ সফরে নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটি।

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও দালালের মাধ্যমে অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা এখনও উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় প্রাণহানি ও প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ অভিবাসনের পথ অনুসরণ করতেই জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকার ও ইতালির পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তার মূল লক্ষ্য—দালালের ওপর নির্ভর না করে বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা থেকে বাংলাদেশি কর্মপ্রত্যাশীদের দূরে রাখা।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে

আরো পড়ুন

পোশাক শ্রমিকদের ইনক্রিমেন্ট৪% বাড়ালো সরকার

পর্তুগালে বৈধ হয়েছেন ১৭ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি

ভারতে ‘বৈধভাবে’ থাকার সময় ফুরিয়ে আসছে শেখ হাসিনার