আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ইসরায়েল ও পাকিস্তানের মধ্যে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ-এর বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল, যা আঞ্চলিক শান্তি উদ্যোগকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান আঞ্চলিক কূটনীতিতে পাকিস্তান নিজেকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করলেও, তাদের মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই দাবি দুর্বল করে দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয়।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো সরকার থেকে এ ধরনের বক্তব্য সহ্য করা যায় না, বিশেষ করে যখন সেই দেশ নিজেকে শান্তির পক্ষের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করে।
এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর খাজা আসিফের মন্তব্যকে “ইহুদিবিদ্বেষী অপপ্রচার” হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা ইসরায়েলের ধ্বংস চায়, তাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিতর্কের সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাজা আসিফের একাধিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি ইসরায়েলকে “মানবতার জন্য অভিশাপ” বলে উল্লেখ করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, গাজা, ইরান এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।
তবে তার কিছু মন্তব্য, বিশেষ করে ইহুদি জনগোষ্ঠী নিয়ে করা মন্তব্য, আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ইসলামাবাদে নতুন করে শান্তি আলোচনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
তবে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় তাদের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে আগেই প্রশ্ন ছিল। এর সঙ্গে নতুন এই বিতর্ক যুক্ত হওয়ায় সেই সংশয় আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
এছাড়া পাকিস্তান যেকোনো যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিলেও, ইসরায়েল এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া
এম.কে

