যুক্তরাজ্যের খ্যাতিমান মুসলিম বক্তা ও যোগাযোগ দক্ষতা প্রশিক্ষক মুবারক খলিলা লিস্টার তার ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে আবারও আলোচনায় এসেছেন। পেশাগত সাফল্য ও ব্যস্ত জীবনের মাঝেও অন্তরের শূন্যতা থেকে সত্যের সন্ধানে তার ইসলাম গ্রহণের যাত্রা এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অনুপ্রেরণার গল্প হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
খলিলা লিস্টারের নিজস্ব জীবনী ও প্রকাশ্যে দেওয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ব্যস্ত ও সফল জীবনযাপন করলেও তিনি ভেতরে এক ধরনের অপূর্ণতা অনুভব করতেন। সেই সময় ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে তিনি ধর্মটি নিয়ে গভীরভাবে অধ্যয়ন শুরু করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই অনুসন্ধানই তার দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন আনে এবং ১৯ বছর বয়সে, ২০০৭ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নতুন পরিচয় ও মূল্যবোধের আলোকে তিনি জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার ও জনসম্মুখে আলোচনায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি ব্যক্তিগত এই যাত্রাকে অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার বার্তায় পরিণত করেন।
বর্তমানে খলিলা লিস্টার পাওয়ার অব ভয়েস একাডেমি (Power of Voice Academy)-এর প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদান, যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং কার্যকর স্টেজ প্রেজেন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন মুসলিম নারী হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন এবং টেডএক্স (TEDx) বক্তাদের জন্যও স্পিকার কোচিং প্রদান করেন।
খলিলার মতে, মুসলিম হওয়া মানে নীরব থাকা নয়; বরং নিজের মূল্যবোধ অটুট রেখে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নিজের কণ্ঠস্বর ব্যবহার করাও ইসলামের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই বার্তাই তিনি তার প্রশিক্ষণ ও বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরেন।
তার ইসলাম গ্রহণের গল্প বিভিন্ন মুসলিম প্ল্যাটফর্ম ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার জীবন পরিবর্তনের এই যাত্রার বিস্তারিত বর্ণনা মূলত তার নিজের বক্তব্য ও প্রকাশ্য জীবনীভিত্তিক তথ্য থেকেই উঠে এসেছে।
সূত্রঃ দ্য কাশ্মীর ক্লিক
এম.কে

