ব্রিটেনে উচ্চ আয়ের বিদেশি কর্মীরা ভবিষ্যতে দেশটি ছেড়ে যেতে পারেন বলে নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য অপেক্ষার সময় ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার সরকারি পরিকল্পনা দক্ষ ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
ব্রিটেন সরকারের অভিবাসনবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ অভিবাসীর তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের লক্ষ্য ছিল— কোন ধরনের অভিবাসীরা দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনে থাকেন, কারা চলে যান এবং নীতিগত পরিবর্তনের ফলে শ্রমবাজার, জনসংখ্যা ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে তা নির্ণয় করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে কম আয়ের অভিবাসীরাই দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনে থাকার প্রবণতা বেশি দেখান। অন্যদিকে বছরে অত্যন্ত উচ্চ আয় করা ব্যক্তিদের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকদের মতে, উচ্চ আয়ের এসব মানুষ আন্তর্জাতিকভাবে বেশি কর্মসুযোগ পান এবং অন্য দেশে চলে যাওয়ার আর্থিক সামর্থ্যও তাদের বেশি থাকে। ফলে ব্রিটেনে দীর্ঘ সময় থাকার আগ্রহ কমে যেতে পারে।
বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণকারী ও বেশি কর প্রদানকারী ব্যক্তিদের জন্য সময়সীমা কমিয়ে আনার সুযোগ রাখা হতে পারে।
তবে উপদেষ্টা কমিটি বলছে, কঠোর নিয়ম বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ পেশাজীবীদের ব্রিটেনে থাকতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। যারা বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন, তারাও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অন্য দেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৪৫ বছরের কম বয়সী অভিবাসীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে থাকার প্রবণতা বেশি। এই বয়সীদের প্রায় ৮১ শতাংশ পাঁচ বছর পরও ব্রিটেনে অবস্থান করেন। বিপরীতে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। গবেষকদের মতে, বয়স বেশি হলে নিজ দেশের সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক শক্তিশালী থাকে, ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে থাকার আগ্রহ কমে যায়।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক পরিচর্যা খাতে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ব্রিটেনে থাকার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে নার্সদের প্রায় ৯৪ শতাংশ পাঁচ বছর পরও ব্রিটেনে থেকে যান। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে থাকার হার সবচেয়ে কম। তাদের অনেকেই স্বল্পমেয়াদি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের কারণে অন্য দেশে চলে যান।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের থাকার হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকা, পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা বেশি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কম আয়ের অভিবাসীরাও শুধু কর প্রদানই করেন না, তারা স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা খাত সচল রাখার মাধ্যমে সমাজ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পাশাপাশি তরুণ কর্মীরা দীর্ঘ সময় কাজ ও কর দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

