TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

উৎসবের নামে লন্ডনের জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনঃ আবর্জনা ও জনদুর্ভোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

লন্ডনের ওয়ানস্টেড ফ্ল্যাটস এলাকার একটি লেকে হিন্দু ধর্মীয় উৎসব গণেশ চতুর্থী পালনের পর সাতটি প্রতিমা ফেলে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিটি অব লন্ডন করপোরেশন। উৎসবকে কেন্দ্র করে পরিবেশের ক্ষতি, আবর্জনা ফেলা, অতিরিক্ত শব্দ, আতশবাজি এবং জনদুর্ভোগের অভিযোগ ওঠার পর আগামী বছর এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।

গত সেপ্টেম্বরে ১০ দিনব্যাপী গণেশ চতুর্থী উৎসবকে কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব লন্ডনের ওয়ানস্টেড ফ্ল্যাটসের আলেকজান্দ্রা লেক ও জুবিলি পন্ড এলাকায় অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন জমায়েত হয়। গণেশ চতুর্থী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি উৎসব, যেখানে হাতির মাথাবিশিষ্ট দেবতা গণেশের জন্ম উদযাপন করা হয়।

সিটি অব লন্ডন করপোরেশনের ইপিং ফরেস্ট অ্যান্ড কমন্স কমিটির চেয়ারম্যান ডেপুটি ক্যারোলিন হেইনস বলেন, মানুষ বনাঞ্চল ও উন্মুক্ত স্থান উপভোগ করতে পারে, তবে তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করতে হবে। উৎসবের পর বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় পরিবেশ রক্ষার কাজে ব্যয় করার অর্থ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় খরচ করতে হচ্ছে।

করপোরেশনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎসবের সময় জলাশয়ে প্রতিমার উপকরণ ডুবিয়ে রাখা, পরিবেশের ক্ষতি, আবর্জনা ফেলা এবং অসামাজিক আচরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত শব্দ, আতশবাজি, জনদুর্ভোগ, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ও ময়লা-আবর্জনা নিয়ে একাধিক অভিযোগও পাওয়া যায়।

উৎসব শেষ হওয়ার পর ইপিং ফরেস্টের কর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও জমায়েতের তুলনায় তাদের সংখ্যা কম ছিল। ফলে উৎসব শেষ হওয়ার পরও প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হয় কর্মীদের। এ সময় লেক থেকে সাতটি প্রতিমা সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিবছর এ ধরনের সমস্যা বাড়ছে, বিশেষ করে আলেকজান্দ্রা লেক এলাকায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টা করা হলেও আয়োজকদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে আগামী বছর থেকে এ ধরনের জমায়েত নিয়ন্ত্রণে আরও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইপিং ফরেস্ট একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকা এবং বিশেষ সংরক্ষণ অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত। সিটি অব লন্ডন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনাধীন দাতব্য সংস্থাটি ওই এলাকায় ফেলে রাখা আবর্জনা পরিষ্কারে বছরে প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড ব্যয় করে, যা সংস্থাটির মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ।

ক্যারোলিন হেইনস বলেন, কোনো উদযাপনই পরিবেশের ক্ষতির কারণ হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, বনাঞ্চল ও উন্মুক্ত স্থান সবার উপভোগের জন্য হলেও সেগুলো ব্যবহারের পর আগের মতো পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন অবস্থায় রেখে যাওয়া প্রয়োজন।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এমকে

আরো পড়ুন

শিগগিরই সুদহার কমানোর ইঙ্গিত ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের

বাজেট ২০২৩: বাড়িওয়ালাদের জন্য কী ঘোষণা করা হয়েছিল?

ইউরোপ হতে ডিপোর্ট সহজ করতে যুক্তরাজ্যসহ ৪৬ দেশের রাজনৈতিক ঘোষণা