16 C
London
August 24, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

একের পর এক চুক্তির পতনঃ ব্যবসায়িক ব্যর্থতায় যুক্তরাজ্যে ফেরার পথে হ্যারি-মেগান

ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর নতুন জীবন ও ব্যবসায়িক পরিচয় তৈরির চেষ্টা করেছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে বসতি গড়ে নেটফ্লিক্স, স্পটিফাইসহ বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের চুক্তিও করেন তারা। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সাফল্যের ধারায় ভাটা পড়েছে। একাধিক প্রকল্প ও বাণিজ্যিক চুক্তিতে ধাক্কার পর এবার যুক্তরাজ্যে নতুনভাবে জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করছেন এই দম্পতি।

মার্কিন বিনোদন জগতে প্রবেশের শুরুতে হ্যারি-মেগানকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ওপ্রাহ উইনফ্রি, গুইনেথ প্যালট্রো ও রব লোর মতো তারকাদের প্রতিবেশী হয়ে মন্টেসিটোতে বসবাস শুরু করেন তারা। এরপর নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইয়ের সঙ্গে বড় অঙ্কের চুক্তি করে নিজেদের নতুন বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’ তাদের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্য। বইটির জন্য তিনি ২ কোটি ডলার অগ্রিম পেয়েছিলেন এবং এটি বিশ্বজুড়ে ৬০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়। হ্যারি নিজের রাজকীয় জীবন, শৈশব ও মা প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানাকে ঘিরে স্মৃতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আন্তর্জাতিক মনোযোগও পান।

তবে রাজকীয় পরিচয়ের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড তৈরি করার ক্ষেত্রে তাদের পথ মসৃণ হয়নি। স্পটিফাইয়ের সঙ্গে আড়াই কোটি ডলারের চুক্তি হলেও ২০২৩ সালে দুই পক্ষের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। মেগানের ‘আর্কিটাইপস’ পডকাস্টে সেরেনা উইলিয়ামস ও মারাইয়া ক্যারির মতো তারকারা অংশ নিলেও প্রকল্পটি প্রত্যাশিত দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি।

নেটফ্লিক্সের সঙ্গে তাদের ৬ থেকে ১০ কোটি ডলারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি সাধারণ ‘ফার্স্ট-লুক’ চুক্তিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ নতুন কোনো প্রকল্প তৈরি হলে সেটি প্রথমে বিবেচনা করার সুযোগ নেটফ্লিক্স পাবে। মেগানের লাইফস্টাইল ও রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘উইথ লাভ, মেগান’ এমি মনোনয়ন পেলেও দুই সিজনের পর বাতিল হয়ে যায়।

এর মধ্যেই মেগানের লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘অ্যাজ এভার’ নিয়েও ধাক্কা আসে। চলতি বছরের শুরুতে নেটফ্লিক্স এ ব্র্যান্ড থেকে নিজেদের অংশীদারিত্ব প্রত্যাহার করে নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিনোদন ও ব্যবসা—দুই ক্ষেত্রেই তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর্কিওয়েল নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। কর্মীদের উচ্চ হারে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাবেক কয়েকজন কর্মী নিজেদের ব্যঙ্গ করে ‘সাসেক্স সারভাইভারস ক্লাব’ নামেও অভিহিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যারি-মেগানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তাদের পরিচয় ও কাজের দিক বারবার পরিবর্তিত হওয়া। রাজপরিবারের সদস্য থেকে রাজপরিবারের সমালোচক, এরপর কনটেন্ট নির্মাতা এবং পরে লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা—এই ধারাবাহিক পরিবর্তন তাদের ব্র্যান্ডের মূল অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং অধ্যাপক অ্যান্ড্রু স্টিফেনের মতে, শুরুতে হ্যারি-মেগান তাদের বিপুল জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারলেও দীর্ঘস্থায়ী ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারেননি। সমাজসেবা, বিনোদন ও লাইফস্টাইল—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ায় তাদের ব্র্যান্ডের মূল লক্ষ্যও অস্পষ্ট হয়ে গেছে।

তবে যুক্তরাজ্যে ফিরে তারা পুরোপুরি বিনোদন ও ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছেন না। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, পরিচালক গাই রিচির নতুন নেটফ্লিক্স কমেডি সিরিজ ‘দ্য জেন্টলমেন’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মেগানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিয়ের পর অভিনয়ে তার বড় পর্দায় ফেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হবে।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডের কটসওল্ডস অঞ্চলে নতুন করে বসতি গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে হ্যারি-মেগানের। ব্রিটিশ গ্রামীণ জীবনকে সামনে রেখে মেগানের ‘অ্যাজ এভার’ ব্র্যান্ডকে নতুনভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসাই যে তাদের হারানো জনপ্রিয়তা বা বাণিজ্যিক সাফল্য ফিরিয়ে দেবে, তা মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু ঠিকানা পরিবর্তন করলেই ব্র্যান্ডের সংকট কাটবে না; দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হলে কাজ ও আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাঃ সংঘর্ষে বহু হতাহত হওয়ার আশঙ্কা

সুপারমার্কেটের কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে হোম অফিস!

অনলাইন ডেস্ক

সাত দিনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বিমান ব্যয় ৬ কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক