TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

‘এমপি হয়েও ৭ দিন ধরে ডিআইজিকে পাচ্ছি না, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী’;

পুলিশের উপমহাপদির্শককে (ডিআইজি) ফোনকল ও মেসেজ দেওয়ার সাত দিন পরেও কোনও প্রতিউত্তর না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক সংসদ সদস্য (এমপি)। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এক বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে।

রবিবার ফেসবুকে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের বিএনপির এমপি মোবাশ্বের ভূঁইয়া লেখেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিশ্চয়ই অফিস আদেশ আছে এমপিকে পাত্তা না দেওয়ার জন্য। তা না হলে এমন তো হওয়ার কথা ছিল না, একজন কর্মকর্তাকে ফায়ার সার্ভিস বিষয় কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলে বসলেন, “আপনার নির্বাচনি এলাকার আমার কিছু সিনিয়র অফিসার আছেন– তাদের কথাও তো মাঝে মাঝে শুনতে হয়।”

আমি অবাক হয়ে ভদ্রলোককে প্রশ্ন করলাম, “তারা কি আপনার কাছে এমপির থেকে বড় হয়ে গেলো?” প্রতিউত্তরে ভদ্রলোক যে নামটা উচ্চারণ করলেন সেই সাবেক কর্মকর্তা ২০০৮ সালে নৌকা মার্কার নির্বাচন করেছেন, ২০২৬ সালে এসে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ধানের শীষের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।

‘তেমনি চট্টগ্রামের ডিআইজি মহোদয়কে আমার নিজের মোবাইল নম্বর থেকে মেসেজ দিয়েছি, এমনকি কল করেছি; সাত দিন অতিবাহিত হয়ে গেলো, ভদ্রলোক উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। আমার জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজেকে অনেক ছোট হতে হয়। তথাপিও আপনাদের জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। কারণ আপনারা আপনাদের ভোট দিয়ে আমাকে মহান সংসদে পাঠিয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ঋণী।’

ফেসবুকের এ বক্তব্যের বিষয়ে এমপি মোবাশ্বের বলেন, ‘আমি ফায়ার সার্ভিসের বিষয়ে কথা বলতে ফায়ার সার্ভিসের পিডি যুগ্মসচিব সারোয়ার হোসেনকে কল দিয়েছিলাম। তিনি আসবেন আসবেন বলে আর আসলেন না। হঠাৎ একদিন তিনি বললেন, “আপনার নির্বাচনি এলাকার আমার কিছু সিনিয়র অফিসার আছে, তাদের কথাও তো মাঝে মাঝে শুনতে হয়।” আমি বললাম, “কে সেই কর্মকর্তা?” তিনি বললেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সাবেক পিএস তালেব আলীর কথা। আমি বললাম, তিনি কি এমপির থেকে বেশি?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। আমার এলাকার ফায়ার সার্ভিসের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ আমলের দোসরদের কথা শুনবে? এ কেমন কথা? আমার এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। আমি বিষয়টি তাদের জানিয়েছি। আমি তাদের কাছে দায়বদ্ধ। তাদের উন্নয়নে কারা বাধা দিচ্ছে জানালাম।’

ডিআইজির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ডিআইজি সাহেবকে ঢাকায় দেখে কথা বলেছিলাম। বললাম, “আমার নির্বাচনি এলাকা তো আপনারই রেঞ্জের৷ আমার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আপনার সাহায্য প্রয়োজন।”

তারপর তাকে কল দিয়েছি। মেসেজ দিয়েছি। সাত দিন পার হলেও তিনি প্রতিউত্তর করেননি। সাধারণ একজন মানুষ সহযোগিতা চাইলে কী হবে সেটি ভাবছি। তারপরও আমি মনে করি তিনি ব্যস্ত ছিলেন। ফ্রি থাকলে হয়তো কোনোদিন কল দেবেন।’

এদিকে, এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম চেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বিকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে দুবার ও ৬টা ৩৫ মিনিটে একবার কল দেওয়া হলেও রিসিভ না করায় বিষয়টি সম্পর্কে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

বিবিসির গোপন তদন্তে উন্মোচিত চ্যানেল পাচার চক্রের ফরাসি ও ব্রিটিশ নেটওয়ার্ক

পিলখানা হত্যাকান্ডঃ ভারতীয় এজেন্টদের রক্ষায় কতিপয় উপদেষ্টার জড়িত থাকার অভিযোগ

ফিলিস্তিনের সমর্থনে’ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরকারীদের খুঁজছে পুলিশ