17.8 C
London
October 15, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

গাজায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগ এইচএসবিসির ইসলামী তহবিলের

যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি কোম্পানিতে ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। তহবিলটি পরিচালনা করে ব্রিটিশ ব্যাংক এইচএসবিসি। দেশটির বহু হালাল পেনশন স্কিম এই তহবিলে বিনিয়োগ করে থাকে।

মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এইচএসবিসির ‘ইসলামিক গ্লোবাল ইক্যুইটি ইনডেক্স ফান্ড’ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আরটিএক্সে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের শেয়ার কিনেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিত এই কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেথিয়ন ইসরায়েলের অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের সঙ্গে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য ইন্টারসেপ্টর তৈরি করে।

অস্ত্র বাণিজ্যবিরোধী সংগঠন ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট আর্মস ট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, রেথিয়ন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও পরিষেবা সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি অস্ত্র ইসরায়েলের গাজা অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে মিডল ইস্ট আই যোগাযোগ করলেও আরটিএক্স কোনো জবাব দেয়নি।

তহবিলটি যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানালগ ডিভাইসেসের ২ কোটি ৩ লাখ ডলারের শেয়ারও কিনেছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা এলবিট সিস্টেমসের কাছে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছিল।

অ্যানালগ ডিভাইসেস জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে তাদের শেয়ার উন্মুক্ত বাজারে কেনাবেচা হয় এবং কোনো তহবিলের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত তারা নিয়ন্ত্রণ করে না। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, তাদের পণ্য বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয় এবং সব বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত আইন মেনে করা হয়।

এইচএসবিসির তহবিলটি যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হানিওয়েলের ১ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের শেয়ার কিনেছে। প্রতিষ্ঠানটি অস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণ ও দিকনির্দেশনায় ব্যবহৃত সেন্সর এবং প্রযুক্তি তৈরি করে। আল জাজিরার ২০২৪ সালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গাজায় একটি স্কুলে হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রে হানিওয়েলের তৈরি একটি যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। ওই হামলায় অন্তত ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৪ শিশু ও নয়জন নারী ছিলেন। হানিওয়েল এ বিষয়ে মিডল ইস্ট আইয়ের অনুরোধে কোনো মন্তব্য করেনি।

তহবিলটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রোলস-রয়েসের ১ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের শেয়ারও কিনেছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি ইসরায়েলের গাজা অভিযানে ব্যবহৃত মার্কাভা ট্যাংকের ইঞ্জিন তৈরি করে। জার্মান সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমটিইউর মাধ্যমে ইসরায়েলি নৌযানের জন্যও ইঞ্জিন সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে রোলস-রয়েস সলিউশনস আমেরিকা ইসরায়েলের ইটান সাঁজোয়া যানবাহনের জন্য ইঞ্জিন সরবরাহের একটি ১৮ কোটি ডলারের চুক্তিতে প্রধান ঠিকাদার হয়। বিনিয়োগকারীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি রোলস-রয়েস।

এর আগে সংবাদমাধ্যম হাইফেন জানিয়েছিল, এইচএসবিসির একই তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পালান্টিরের ৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের শেয়ার কিনেছে। তথ্য বিশ্লেষণ ও নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী পালান্টির ২০২০ সাল থেকে ব্রিটেনের বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে ৬৭ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের চুক্তি পেয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ‘যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে’ প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয়।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পালান্টিরের প্রযুক্তি ও সামরিক সফটওয়্যার নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, এইচএসবিসির তহবিলে ব্রিটেনের বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা বিএই সিস্টেমসেরও শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ ডলার। প্রতিষ্ঠানটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে। তহবিলটির কাছে বুকিং ডটকম ও এক্সপিডিয়ার শেয়ারও রয়েছে। জাতিসংঘের তালিকায় অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে সম্পত্তির তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই দুই কোম্পানির নাম এসেছে।

ইসলামি অর্থায়নবিষয়ক ওয়েবসাইট ইসলামিক ফাইন্যান্স গুরুর সহপ্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহিম খান মিডল ইস্ট আইকে বলেন, এসব তহবিলের বিনিয়োগের মানদণ্ড অনেক আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাই রাতারাতি তা পরিবর্তন করা সহজ নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায় যদি বিষয়টি নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তাহলে সেই মানদণ্ড পরিবর্তন করা উচিত। তার মতে, এইচএসবিসির বিনিয়োগনীতির বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করে আরও জবাবদিহি দাবি করা প্রয়োজন, তবে বিষয়টি ন্যায্যতার সঙ্গেও মোকাবিলা করতে হবে।

এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও এইচএসবিসি কোনো জবাব দেয়নি। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর গত তিন বছরে বিভিন্ন বিনিয়োগ তহবিলের ওপর ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রত্যাহারের চাপ বেড়েছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ব্রিটেনের বৃহত্তম সরকারি খাতের পেনশন তহবিল ব্যবস্থাপক বর্ডার টু কোস্ট পেনশনস পার্টনারশিপ গত বছর ইসরায়েলি সরকারি বন্ডে তাদের বিনিয়োগ বিক্রি করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সরকারে কর্মরত প্রায় ২০ লাখ মানুষের পক্ষে প্রায় ১২০ বিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ পরিচালনা করে।

সূত্রঃ মিডল ইস্ট আই

এমকে

আরো পড়ুন

এনবিসি সাক্ষাৎকারে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ঃ ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে নতুন বিতর্ক

ইংল্যান্ডে হোম অফিসের নতুন প্রযুক্তিঃ পালাতক অপরাধী ধরতে ক্যামেরা ভ্যান

সৌদি আরবে ঈদের তারিখ নিয়ে তুমুল বিতর্ক, জ্যোতির্বিদের সমালোচনা