TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

চীনা হ্যাকিংয়ের ‘ভয়াবহ’ ঝুঁকিতে ব্রিটিশ কৃষিঃ ট্রাক্টর-ড্রোন দিয়েই নজরদারিতে খাদ্যনিরাপত্তা

ব্রিটেনের কৃষি খাত চীনা প্রযুক্তির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার কারণে গুরুতর সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে একটি নতুন প্রতিবেদন। জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত ট্রাক্টর, কৃষি ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা ও গবাদিপশু পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তিতে চীনে তৈরি সংযোগ-চিপ ব্যবহারের ফলে ব্রিটেনের খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা সম্ভাব্য নজরদারি, তথ্য চুরি এমনকি দূর থেকে যন্ত্র অচল করার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

লেবার দলীয় সংসদ সদস্য গ্রেম ডাউনি নেতৃত্বাধীন নিরাপদ প্রযুক্তি জোট এই ঝুঁকি তুলে ধরে বলেছে, কৃষি খাতে ব্যবহৃত সংযুক্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্র বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ব্রিটিশ কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত চীনা তৈরি মোবাইল-সংযুক্ত ইন্টারনেট মডিউলগুলো যন্ত্র, সেন্সর ও সফটওয়্যারকে মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়। প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, এই সংযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে গোপনে তথ্য সংগ্রহ, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া কিংবা কৃষিযন্ত্রের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো সম্ভব হতে পারে।

বিশেষ করে জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত ট্রাক্টর, কৃষি ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা, গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, নির্ভুল সার প্রয়োগের যন্ত্র এবং শস্য সংরক্ষণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—এসব প্রযুক্তি শুধু কৃষিকাজ সহজ করছে না, একই সঙ্গে ব্রিটেনের খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্যও ধারণ করছে। সম্ভাব্যভাবে ফসলের উৎপাদন, ভবিষ্যৎ উৎপাদনের পূর্বাভাস, গবাদিপশুর সংখ্যা এবং কৃষি কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য এসব সংযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে জানা সম্ভব হতে পারে।

নিরাপদ প্রযুক্তি জোটের আশঙ্কা, কোনো বৈরী রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এই তথ্য ব্যবহার করে ব্রিটেনের খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারে। কোনো সংকট, সংঘাত কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপের সময় এসব তথ্য কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে।

আরও গুরুতর আশঙ্কা হলো, সংযুক্ত কৃষি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত মডিউলগুলো দূরবর্তী সফটওয়্যার হালনাগাদ গ্রহণ করতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার অপব্যবহার হলে ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করানো, গোপনে তথ্য সংগ্রহ কিংবা কোনো যন্ত্র বা পুরো ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গ্রেম ডাউনি বলেন, চীনে তৈরি প্রযুক্তির হুমকি শুধু বৈদ্যুতিক যানবাহন কিংবা জ্বালানি অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর দাবি, ব্রিটেনের কৃষিক্ষেত্রও একই ধরনের কাঠামোগত দুর্বলতার মুখোমুখি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ব্রিটিশ অর্থনীতির অন্যতম সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তিনির্ভর খাত হলেও দেশের কৃষিতে চীনা হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে কতগুলো সংযুক্ত ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে ওয়েস্টমিনস্টারের কাছেই পর্যাপ্ত ধারণা নেই। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গ্রেম ডাউনি সতর্ক করেছেন, খাদ্যনিরাপত্তা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সরবরাহে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে ব্রিটেন কৌশলগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

চীনা প্রযুক্তি নিয়ে ব্রিটেনের নিরাপত্তা উদ্বেগ অবশ্য কৃষি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে রয়্যাল নেভির সরঞ্জামে ব্যবহৃত চীনা উপাদান থেকে চীনের একটি ইন্টারনেট ঠিকানায় যোগাযোগের ঘটনা এবং চীনা তৈরি বৈদ্যুতিক বাস দূর থেকে অচল করার সম্ভাবনা নিয়ে আগের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

নিরাপদ প্রযুক্তি জোটের মতে, চীন ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ব্যাটারির মতো কৌশলগত খাতে ব্যাপক বাজার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। কৃষি প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনটির সুপারিশ হলো, ব্রিটিশ সরকারকে সংযুক্ত কৃষি প্রযুক্তিকে ‘উদীয়মান জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বিদেশি প্রযুক্তি ও যোগাযোগ উপাদানের ওপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন ব্রিটেনে খাদ্যনিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি নথিতেও খাদ্যনিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে এসাইলাম প্রার্থীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে লাভজনক ব্যবসা করছে বেসরকারী সংস্থাগুলি

রাজকীয় দায়িত্ব হারাতে চলেছেন প্রিন্স হ্যারি ও অ্যান্ড্রু!

অনলাইন ডেস্ক

বেনিফিট বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করতে গিয়ে নতুন কেলেঙ্কারির জন্ম দিতে পারে সরকার