চীনের তৈরি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কৌশলগত ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে এর সঙ্গে রয়েছে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও।
জে-১০সিই হলো চীনের তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা আকাশযুদ্ধ, স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ এবং সামুদ্রিক অভিযানে সমানভাবে কার্যকর। আধুনিক রাডার, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা যুক্ত থাকায় এটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে আলোচিত একটি প্ল্যাটফর্ম।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনা যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক কম খরচ। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের সমমানের যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনা বিমান অনেক কম দামে পাওয়া যায়। ফলে সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে।
এ ছাড়া অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে চীন সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর মতো কঠোর রাজনৈতিক শর্ত আরোপ করে না। এতে ক্রেতা দেশগুলো তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পায়। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই চীনের কাছ থেকে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে আসছে, ফলে বিদ্যমান সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় নতুন যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, জে-১০সিই-এর মতো মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান বিমানবাহিনীকে বহুমুখী সক্ষমতা দিতে পারে। একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষা, শত্রু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত এবং নৌ-অভিযানে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এ ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য উন্নত অবকাঠামো অপরিহার্য। নিরাপদ হ্যাঙ্গার, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং উন্নত রানওয়ে ছাড়া এই প্ল্যাটফর্মের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। ফলে বিমান কেনার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে, বড় পরিসরে চীনা সামরিক সরঞ্জাম কেনা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক প্রয়োজন নয়; এটি অর্থনীতি, প্রযুক্তি, কূটনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই সম্ভাব্য যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সামরিক সক্ষমতা, ব্যয়, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
এম.কে

