14.9 C
London
June 11, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

জ্বালানির সংকটে রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলো যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির চড়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে তৃতীয় কোনো দেশে পরিশোধিত রাশিয়ার ডিজেল ও জেট ফুয়েলের ওপর থেকে এই কড়াকড়ি তুলে নেয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২০ মে) থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই লন্ডন এই সিদ্ধান্ত নিলো। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জ্বালানি তেলের পাশাপাশি রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ওপর থেকেও কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, সামগ্রিকভাবে রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত থাকলেও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রয়োজন। তবে যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে তা বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপে জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়েছিল। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৫৮ দশমিক ৫২ পেন্স, যা যুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানির এই আকাশচুম্বী দামের কারণে অনেক এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই নতুন নিয়ম অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ভারত বা তুরস্কের মতো দেশগুলো থেকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল দিয়ে তৈরি জ্বালানি যুক্তরাজ্যে অনায়াসেই ঢুকতে পারবে।

ব্রিটিশ ট্রেজারি মন্ত্রী ড্যান টমলিনসন বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এই সামান্য ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিবর্তন আনা জরুরি ছিল।’ তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপি ডেম এমিলি থর্নবেরি। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের মিত্ররা এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত হতাশ।’ তার মতে, অন্য দেশ ভুল পথে হাঁটছে বলেই যুক্তরাজ্যকে সেই পথে চলতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, সরকার উত্তর সাগরে তেল উত্তোলনের বদলে রাশিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে এতদিন পশ্চিমা দেশগুলো কঠোর অবস্থানে ছিল। তবে ইরান সংকটের কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এখন সেই অবস্থানকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরালে তা শেষ পর্যন্ত পুতিনের যুদ্ধ তহবিলেরই যোগান দেবে। কিন্তু বর্তমান টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজার সামাল দিতেই বেশি মনোযোগী হয়ে উঠেছে পশ্চিমা শক্তিগুলো।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেন আপনিও, আবেদন করবেন যেভাবে

সুপারইন্টেলিজেন্সের দৌড়ে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বাজিঃ মেটার নতুন মিশন

নিউজ ডেস্ক

মুসলিমদের রক্ষায় প্রথম অ্যান্টি-ইসলামফোবিয়া কর্মকর্তা নিয়োগ কানাডায়