16.7 C
London
October 9, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের গ্রিন কার্ড কর্মসূচিতে স্থগিতাদেশঃ ৮ প্রতিষ্ঠানের ভারতীয় কর্মীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড কর্মসূচিতে আটটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আবেদন স্থগিতের খবর ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, উইপ্রো, মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনি। এই পদক্ষেপ কার্যকর থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা কর্মীদের অপেক্ষা বাড়তে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশি কর্মী নিয়োগে নিয়মের অপব্যবহার ও অনিয়মের প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ এবং স্থগিতাদেশের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো পিইআরএম বা স্থায়ী শ্রম অনুমোদন। এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতাকে সাধারণত প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য উপযুক্ত ও আগ্রহী মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। পিইআরএম অনুমোদন না পেলে যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ডের আবেদন এই ধাপের ওপর নির্ভরশীল, তাদের পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে টাটা, ইনফোসিস, উইপ্রো ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব। যাদের নিয়োগদাতা এখনো পিইআরএম আবেদন করেনি বা যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের ক্ষেত্রে প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। তবে স্থগিতাদেশের আওতা ও মেয়াদ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া কতজন ভারতীয় কর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত ভারতীয় কর্মীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পিইআরএম প্রক্রিয়া আটকে গেলে তাদের গ্রিন কার্ডের পরিকল্পনা বিলম্বিত হতে পারে। তবে পিইআরএম স্থগিত হওয়া মানেই এইচ-১বি ভিসা বাতিল নয়। বৈধ ভিসা ও কর্মসংস্থানের শর্ত বজায় থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, যদি অন্য কোনো অভিবাসনগত বাধা না থাকে।

এইচ-১বি ভিসায় সাধারণত সর্বোচ্চ ছয় বছর থাকার নিয়ম রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এর বেশি সময় থাকার সুযোগও রয়েছে। যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি এবং যারা গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক জটিল হতে পারে। তবে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমতি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্মীর আবেদন, যোগ্যতা ও প্রযোজ্য অভিবাসন আইনের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি নিতে আগ্রহী ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সিদ্ধান্তেও এর প্রভাব পড়তে পারে। স্থায়ী বসবাসের সুযোগ অনিশ্চিত হলে কেউ কেউ চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ, পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের পরিকল্পনা নতুন করে বিবেচনা করতে পারেন। তবে অন্য যোগ্য নিয়োগদাতার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো ও এইচসিএল টেকনোলজিসের মতো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করে। স্থগিতাদেশ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় কর্মী নিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী প্রশিক্ষণ এবং ভারত থেকে দূরবর্তীভাবে কাজ পরিচালনার মতো বিকল্পের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী পাঠানো, আন্তর্জাতিক পদায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর ফলে ভারতে চাকরি কমে যাবে বা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবেই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পিইআরএম কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির কারণে তাদের কর্মী ব্যবস্থাপনা বা গ্রাহকসেবার কৌশলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছে না। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আটটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মী একই মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে স্থগিতাদেশের সুনির্দিষ্ট পরিধি, মেয়াদ, তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিবাসনগত অবস্থার ওপর। যেসব ভারতীয় পেশাজীবীর গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের নিয়োগদাতার কাছ থেকে বর্তমান আবেদন পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ রয়টার্স

এমকে

আরো পড়ুন

নিলামে উঠছে মাইকেল জ্যাকসনের হ্যাট

গাজাগামী ফ্লোটিলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুহি লোরেন

দাঙ্গার এক বছর পরও আতঙ্কে উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের মুসলিমরা