TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ছায়া থেকে বের হতে পারবেন কি জেডি ভ্যান্সঃ টালমাটাল রাজনীতিতে চাপ বাড়ছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন। গত এক সপ্তাহে একাধিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরান ইস্যুতে আলোচনায় ব্যর্থতা, হাঙ্গেরির নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া এবং ধর্মীয় নেতার সঙ্গে বিতর্ক—এই তিনটি ঘটনাই ভ্যান্সের ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রেই তিনি মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্যের কারণেই ভ্যান্স এখন রাজনৈতিক মূল্য দিচ্ছেন। জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমছে এবং ভবিষ্যতে ট্রাম্পপন্থী উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাবনাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

যদিও ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা বাড়ছে, তবুও ভ্যান্স এখনও ক্ষমতার পরবর্তী সারিতে অবস্থান করছেন। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি বর্তমান অবস্থান ধরে রেখে এগোবেন, নাকি পরিস্থিতি খারাপ হলে ট্রাম্প থেকে দূরত্ব তৈরি করবেন।

এর আগে ট্রাম্পের প্রথম টার্মের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স-এর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি এবং রাজনৈতিক বিরোধের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। ফলে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে বলে মত রয়েছে।

অন্যদিকে, ভ্যান্স নিজেও অতীতে ট্রাম্পের কড়া সমালোচক ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি অবস্থান বদলে ট্রাম্পপন্থী রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।

একসময় বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করলেও বর্তমানে তিনি একাধিক দেশে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও বিভিন্ন সময় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।

সাম্প্রতিক এক ঘটনায়, পোপ লিওকে ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ভ্যান্সের প্রতিক্রিয়া ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এতে বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় অনুসারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়।

এদিকে ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাতেও ভ্যান্স প্রত্যাশিত ফল আনতে ব্যর্থ হন। অভিজ্ঞতার অভাব এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সীমাবদ্ধতা এ ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হাঙ্গেরির নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প নিজে না গিয়ে ভ্যান্সকে পাঠান। কিন্তু এতে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় ইউরোপে ট্রাম্পপন্থী রাজনীতির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে সরাসরি অপসারণ করা না গেলেও, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে ভাইস প্রেসিডেন্টের ভূমিকা থাকতে পারে। ফলে ভ্যান্স চাইলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থানে থাকতে পারেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রভাব ভ্যান্সের ওপরও পড়ছে। জরিপে তাকে আধুনিক সময়ের সবচেয়ে অজনপ্রিয় ভাইস প্রেসিডেন্টের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ভ্যান্সের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ভারতে বিবিসির কার্যালয়ে ‘অভিযান’, কর্মীদের ফোন জব্দ

নিউজ ডেস্ক

জার্মানিতে ভোটারের সর্বনিম্ন বয়স ১৬ কর‍তে চায় সরকার

ইরানে ‘সরকার পরিবর্তনের’ বিষয়ে ট্রাম্প হয়তো মজা করছেনঃ সাবেক মার্কিন দূত