TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিতে ভুয়া নির্যাতনের গল্প—কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি যুক্তরাজ্য সরকারের

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন এক ধরনের প্রতারণার চিত্র সামনে এসেছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু অভিবাসী মিথ্যা ডডমোস্টিক ভায়োলেন্সের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দেশে থাকার চেষ্টা করছে।

এই প্রতারণা মূলত এমন একটি বিশেষ সুবিধার অপব্যবহার, যা প্রকৃত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন কিছু অসাধু ব্যক্তি এই সুযোগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কিছু অভিবাসী পরিকল্পিতভাবে ব্রিটিশ নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে বা বিয়ে করে। এরপর দেশে আসার পর তারা ভুয়া নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আলাদা হয়ে যায় এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে থাকার আবেদন করে।

এছাড়া কিছু অসাধু পরামর্শদাতা অনলাইনে প্রচার চালিয়ে এসব ভুয়া অভিযোগ তৈরি করতে সাহায্য করছে। এমনকি একজন পরামর্শদাতা গোপন সাক্ষাতে ৯০০ পাউন্ডের বিনিময়ে সম্পূর্ণ ভুয়া নির্যাতনের গল্প তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ না থাকলেও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দেখিয়ে সহজেই আবেদন করা সম্ভব। নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তার পরিচালিত সব আবেদনই সফল হয়েছে।

এই ধরনের প্রতারণায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নির্দোষ ব্রিটিশ সঙ্গীরা। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হচ্ছে, যা পরে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—যদিও তদন্তে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে না।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ৫ হাজার ৫৯৬ জন এই সুবিধার আওতায় স্থায়ী বসবাসের আবেদন করেছে। এর মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ পুরুষ, এবং গত দুই বছরে পুরুষদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যবস্থার দ্রুত ফল পাওয়ার সুযোগই অপব্যবহারের বড় কারণ। সাধারণ নিয়মে স্থায়ী বসবাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু এই পথে খুব অল্প সময়েই আবেদন করা যায়।

একটি ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, এক নারী তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করার পর বিচ্ছিন্ন হন। পরে সেই সঙ্গী উল্টো তার বিরুদ্ধে গৃহ নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দেশে থাকার চেষ্টা করে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও সে এই সুযোগ ব্যবহার করে দেশে থেকে যায়।

ভুক্তভোগী নারী জানান, এতে তার জীবন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে।

আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণ না হলেও এই ধরনের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে, যা পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃত ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে, তবে যারা প্রতারণার আশ্রয় নেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

এদিকে অভিবাসন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং অবৈধভাবে পরামর্শ দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্যরাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কিছু অভিবাসী খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মিথ্যা অভিযোগ তুলে দ্রুত স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সুবিধা মূলত নির্যাতিত ও দুর্বল মানুষের সুরক্ষার জন্য তৈরি হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি তা অপব্যবহার করছে, যা পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

তাপপ্রবাহে কাঁপছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস, বজ্রঝড়ের আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যে চক্ষু বিশেষজ্ঞের ঘাটতিকে দৃষ্টি শক্তি হারাতে বসেছে রোগীরা

যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট টিকেট বুকিং চালু করেছে উবার