22.2 C
London
August 14, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ধনী এলাকায় আশ্রয়প্রার্থী পাঠানোর পরিকল্পনাঃ বার্নহ্যামের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যবিত্ত ও সচ্ছল এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রিফর্ম ইউকে ও কনজারভেটিভ (টোরি) নিয়ন্ত্রিত একাধিক স্থানীয় কাউন্সিল এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে জুডিশিয়াল রিভিউসহ বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বার্নহ্যামের সরকার বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত সব হোটেল বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সরকার ভাড়া নেওয়া সাধারণ আবাসন এবং এইচএমও (হাউস ইন মাল্টিপল অকুপেশন) ধরনের বাড়িতে আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট স্বীকার করেছে, মধ্যবিত্ত এলাকায় ভাড়া বেশি হওয়ায় এতে করদাতাদের অতিরিক্ত ব্যয় হবে।

বার্নহ্যামের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে দেশের দরিদ্র এলাকাগুলোই আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের প্রধান চাপ বহন করেছে। তাই এখন সচ্ছল এলাকাগুলোকেও “নিজেদের দায়িত্ব পালন” করতে হবে। সরকারের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের সারা দেশে তুলনামূলকভাবে ন্যায্যভাবে বণ্টন করাই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

কিন্তু এই অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে। দলটির এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, সরকার “অবৈধ অভিবাসীদের” ব্যয়বহুল এলাকায় পাঠিয়ে করদাতাদের ওপর নতুন বোঝা চাপাতে চাইছে। তিনি বলেন, রিফর্ম-নিয়ন্ত্রিত কাউন্সিলগুলো আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি পরিকল্পনা আইন এবং এইচএমও সংক্রান্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব পদক্ষেপ প্রতিহত করবে।

কনজারভেটিভ পার্টিও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে। দলের উপ-চেয়ারম্যান ম্যাট ভিকার্স বলেন, সরকার নৌকায় করে অবৈধ প্রবেশ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন সমস্যার সমাধান না করে সেটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, হোটেল বন্ধ করার নামে আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানীয় আবাসিক এলাকায় স্থানান্তর করা হলে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য আবাসনের সংকট আরও বাড়বে।

বিষয়টি শুধু বিরোধী দলেই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু লেবার এমপিও সরকারের আবাসন পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। উত্তর ইয়র্কশায়ারের একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ১,২০০ আশ্রয়প্রার্থী রাখার প্রস্তাবকে স্থানীয় অবকাঠামোর জন্য অনুপযুক্ত বলে সমালোচনা করা হয়েছে।

দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের পুনর্বণ্টনের ধরন অনুযায়ী ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সব কাউন্সিলে সমান সংখ্যক মানুষ পাঠালে ব্যয় প্রায় ২.৮ শতাংশ বাড়বে। জনসংখ্যার অনুপাতে বণ্টন করলে তা ৬.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আর স্থানীয় সম্পদের ভিত্তিতে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ব্যয় প্রায় ১৬.৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, কারণ এতে লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের মতো উচ্চ ভাড়ার এলাকায় আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সরকার অবশ্য দাবি করছে, আশ্রয়ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৩৫ শতাংশ কমেছে এবং ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে মোট আশ্রয়ব্যয় প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড কমেছে বলেও সরকারের দাবি।

তবে রিফর্ম ইউকে ও টোরি-নিয়ন্ত্রিত ৮৬টিরও বেশি কাউন্সিল আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটলে বার্নহ্যামের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নীতি এখন শুধু মানবিক নয়, যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কেও পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

অভিবাসীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুইমাস পর: যুক্তরাজ্য

রমজান সম্পর্কে শেখাতে স্কুলের শিশুদের খাওয়ালো সমারসেটের রেস্তোরাঁ

লন্ডন আদালতে ঐতিহাসিক রায়ঃ ব্রিটিশ সেনাদের সন্তান প্রমাণ করলেন কেনিয়ার সাত নাগরিক

নিউজ ডেস্ক