যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন। প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়ন ও নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে জন হিলি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (ডিআইপি) বর্তমান সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণে “অপর্যাপ্ত”। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়টি যুক্তরাজ্যের জন্য “অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ” এবং এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাজেট আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন ছিল।
হিলি তার চিঠিতে লেখেন, তিনি চলতি সপ্তাহের সোমবার বিকেলে প্রথমবারের মতো পুরো প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার আর্থিক প্রস্তাব পান। তার মতে, এই বরাদ্দ “প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম”।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় ইউক্রেনকে সমর্থন দিতে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ন্যাটোতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখাকে তিনি দায়িত্বকালীন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখেন। তবে প্রতিরক্ষা অর্থায়ন ইস্যুতে তিনি সরকারের অবস্থানের সঙ্গে একমত হতে পারেননি।
পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “আমি আগে থেকেই বলেছিলাম, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ কোনো প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা আমি গ্রহণ করতে পারব না। তাই আমার সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না, পদত্যাগ করা ছাড়া।”
এই পদত্যাগের ফলে কিয়ার স্টারমারের সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি ও বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জন হিলির পদত্যাগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি বলে জানা যায়।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

