13 C
London
October 24, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে আর্জেন্টিনাকে সাবমেরিন দিতে চায় ফ্রান্স

আর্জেন্টিনার নৌবাহিনীর জন্য তিনটি আধুনিক সাবমেরিন সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে এই উদ্যোগ ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সাবমেরিনগুলো আর্জেন্টিনার নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং দক্ষিণ আটলান্টিকে ব্রিটেনের সামরিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

আর্জেন্টিনার সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রধান অ্যাডমিরাল মার্সেলো দালে নোগারে গত ৭ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের রোটারি ক্লাবে জানান, দেশটির নৌবাহিনীর জন্য সাবমেরিন সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানি। ফ্রান্সের নেভাল গ্রুপ প্রস্তাব করেছে স্করপেন শ্রেণির সাবমেরিন। জার্মানির থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (টিকেএমএস) দিয়েছে টাইপ ২০৯এনজি নকশার সাবমেরিনের প্রস্তাব।

দালে নোগারের মতে, দুটি বিকল্পই বিশ্বের উন্নত সাবমেরিনগুলোর মধ্যে পড়ে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সাবমেরিনগুলো সরবরাহ করতে প্রায় ছয় বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স ও জার্মানি পুরো চুক্তির অর্থায়ন করে পরে কিস্তিতে অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে আর্জেন্টিনার সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে দুই দেশের সরকার এই অর্থায়নব্যবস্থার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। জার্মানির টিকেএমএস নিশ্চিত করেছে, তারা আর্জেন্টিনার নৌবাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালেই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সম্প্রতি ডেনমার্ক থেকে আর্জেন্টিনার কাছে ১২টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও ১২টি যুদ্ধবিমান ২০২৮ সালে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। সাবমেরিন কেনার পরিকল্পনাও দেশটির নৌবাহিনী আধুনিকায়নের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ব্রিটেন দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার সামরিক প্রধান দালে নোগারে মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাজ্যের পক্ষে দ্বীপপুঞ্জটি ধরে রাখা অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়লে একদিন আর্জেন্টিনা তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এল ক্রোনিস্তাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন বলে জিবি নিউজ জানিয়েছে।

তবে প্রেসিডেন্ট মিলেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ফকল্যান্ড নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করলেও সামরিক সমাধানে বিশ্বাস করেন না বলে জানিয়েছেন। তার সরকারের সামরিক আধুনিকায়নের উদ্যোগ এবং দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।

ব্রিটিশ এমপি অ্যান্ড্রু রসিনডেল ফ্রান্স ও জার্মানির সম্ভাব্য সাবমেরিন সরবরাহের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশগুলোর এমন উদ্যোগ দক্ষিণ আটলান্টিকে সামরিক ভারসাম্য বদলে দিতে পারে এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ফ্রান্স ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী লুইস স্যান্ডহার-জোনস জানিয়েছেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আটলান্টিকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে প্রায় দেড় হাজার সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। সেখানে টাইফুন যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, স্থলবাহিনী এবং দক্ষিণ আটলান্টিকে দায়িত্ব পালনকারী রয়্যাল নেভির একটি টহলজাহাজ রয়েছে। সরকার বলেছে, এই অঞ্চলে সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উপযুক্ততা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।

তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আর্জেন্টিনার নৌবাহিনীতে উন্নত সাবমেরিন যুক্ত হলে ব্রিটেনকে সমুদ্রের নিচে নজরদারি এবং সাবমেরিন শনাক্ত করার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হতে পারে। সাবমেরিনের অবস্থান শনাক্ত ও গতিবিধি অনুসরণ করতে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি প্রয়োজন হতে পারে, যা বাড়তি অর্থ ও সামরিক সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধেও আর্জেন্টিনা জার্মানির তৈরি টাইপ ২০৯ শ্রেণির সাবমেরিন ব্যবহার করেছিল। এআরএ সান লুইস নামের সাবমেরিনটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে টর্পেডো হামলা চালালেও কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারেনি। তবে ব্রিটিশ সাবমেরিনবিরোধী বাহিনীর নজর এড়িয়ে এটি অভিযান চালিয়ে যায়। অতীতের এই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন সাবমেরিন কেনার সম্ভাবনাকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

অন্যদিকে, কিছু প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মনে করেন, আর্জেন্টিনার সামরিক আধুনিকায়নকে শুধু ফকল্যান্ড বিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। তাদের মতে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও চিলির মতো দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সম্ভাব্য সাবমেরিন চুক্তির সঙ্গে ফকল্যান্ড নিয়ে কূটনৈতিক নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত যুক্ত হতে পারে বলেও তারা মনে করেন।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

হাইকোর্টের চ্যালেঞ্জে হেরে গেলেন প্রিন্স হ্যারি

যুক্তরাজ্যে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটসহ ভাতা গ্রহণকারীর ব্যাংক হিসাব যাচাই করতে পারবে ডিডব্লিউপি

যুক্তরাজ্যে বিগবেনে ঘণ্টা বাজার শত বছর পূর্ণ