22.2 C
London
August 14, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বিদেশি শিক্ষার্থী কমতেই টালমাটাল ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারী ছাঁটাই, কোর্স বাতিল এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা লেবার সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত নতুন লেভি বা কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

হোম অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দেবে।

কিংস কলেজ লন্ডনের উপাচার্য অধ্যাপক শিতিজ কাপুর বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। তার ভাষায়, প্রতি পাঁচজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে কর্মীসংখ্যা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বছর ইংল্যান্ডে রেকর্ড ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থী তাদের প্রথম পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং এ-লেভেলেও উন্নত ফলাফল এসেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশীয় শিক্ষার্থীর এই বৃদ্ধি বিদেশি শিক্ষার্থীর ঘাটতি পূরণ করার মতো যথেষ্ট নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক চাপের আরেকটি বড় কারণ দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় টিউশন ফি কার্যত স্থির থাকা। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্নাতক পর্যায়ের ফি ৯ হাজার ২৫০ পাউন্ডে আটকে ছিল। মূল্যস্ফীতির কারণে সেই আয়ের প্রকৃত মূল্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রতি ৯২৫ পাউন্ড লেভি যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।

আর্থিক সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার কর্নওয়ালের পেনরিন ক্যাম্পাসে ভূগোলসহ একাধিক কোর্স বাতিল করেছে, যার প্রভাব চলতি বছরের আবেদনকারীদের ওপরও পড়বে। এর আগে এডিনবরা, কার্ডিফসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ছাঁটাই ও ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়মন্ত্রী ডেভিড উইলেটস বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিক সংকটে পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মতে, অর্থের অভাবে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী লিবি হ্যাকেট বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, পুরো যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় দেশটি প্রায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের নিট অর্থনৈতিক সুবিধা হারিয়েছে।

ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহী ভিভিয়েন স্টার্ন সর্বশেষ ভিসা পরিসংখ্যানকে নীতিনির্ধারকদের জন্য ‘জাগিয়ে দেওয়ার মতো সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর কর আরোপের নীতি প্রত্যাহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান পুনরুদ্ধার সহজ হবে।

এদিকে দক্ষতা বিষয়ক মন্ত্রী জ্যাকি স্মিথ জানিয়েছেন, সরকার চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করুক। ভবিষ্যতে টিউশন ফি বাড়ানোর বিষয়টি শিক্ষাদানের মানের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে লর্ড মেয়রের দায়িত্ব নিলেন মৌলভীবাজারের মেয়ে

ব্রিটিশ গুপ্তচর নিয়োগে আসছে বিপুল পরিবর্তন

বহু আশ্রয়প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয় হোম অফিস