২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ টমাস টুখেল-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টুখেলকে নিয়োগ দেওয়ার আগে স্প্যানিশ কোচ পেপ গার্দিওলার সঙ্গে ইংল্যান্ড দলের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে একটি মৌখিক সমঝোতা হয়েছিল।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য অ্যাথলেটিক-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেট দায়িত্ব ছাড়ার পর ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) পেপ গার্দিওলাকে প্রধান কোচ হিসেবে চেয়েছিল। গার্দিওলাও মৌখিকভাবে দায়িত্ব নিতে সম্মতি দিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি ম্যানচেস্টার সিটিতে নিজের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এফএ বিকল্প হিসেবে টমাস টুখেলকে বেছে নেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে টুখেল আনুষ্ঠানিকভাবে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ড এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ম্যাচ হেরে যায়। এই পরাজয়ের পর টুখেলের কৌশল ও দল পরিচালনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশ এফএর কাছে তাকে বরখাস্ত করার দাবিও তুলেছেন। তাদের মতে, গত মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার পর বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না থাকা পেপ গার্দিওলা ইংল্যান্ডের জন্য আদর্শ বিকল্প হতে পারেন।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুখেলের চাকরি এখনই ঝুঁকির মুখে পড়ছে না। কারণ তার চুক্তিতে এমন কিছু ধারা থাকলেও, সেগুলো কার্যকর হতো কেবল তখনই, যদি ইংল্যান্ড কোয়ার্টার-ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিত। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে পৌঁছানোয় সেই শর্তগুলো কার্যকর হয়নি।
এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন টুখেলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে তাকে ইউরো ২০২৮ পর্যন্ত দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বকাপ শেষে নিয়মিত পর্যালোচনা হলেও এফএ এখনও জার্মান এই কোচের প্রতিই আস্থা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড টুখেলকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করলেও তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি এবং ইংল্যান্ডের দায়িত্বেই থেকে যান।
এখন টুখেলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে দলকে ঘুরে দাঁড় করানো। একই সঙ্গে এ ম্যাচে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া এবং বিশ্বকাপ-পরবর্তী এফএর মূল্যায়নই নির্ধারণ করতে পারে ইংল্যান্ড দলের কোচিং স্টাফ নিয়ে ভবিষ্যতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
এম.কে

