TV3 BANGLA
স্পোর্টস

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর রণক্ষেত্রঃ স্পেনের শিরোপা জয়ের মুহূর্তেই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ

২০২৬ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মাঠেই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পুনরুদ্ধার করে স্পেন। তবে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়।

স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন, তখন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় তাদের দিকে তেড়ে যান বলে ম্যাচ-পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রেফারি ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।

ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে স্পেনের বদলি খেলোয়াড় গাভির সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে লাল কার্ড দেখানো হয়। একই সময়ে ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকেও স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রির দিকে ঘুষি ছোড়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ধারাভাষ্যকার ও সাবেক খেলোয়াড়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পারেদেস প্রতিপক্ষের দিকে একাধিক ঘুষি মারার চেষ্টা করেছিলেন।

বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার এই ঘটনাকে ফুটবলের জন্য কলঙ্কজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এমন আচরণের কোনো স্থান ফুটবলে নেই। তার মতে, হার কষ্টের হলেও সেটি মেনে নেওয়ার একটি মর্যাদাপূর্ণ উপায় রয়েছে। শিয়ারার আরও বলেন, স্পেনই ছিল ম্যাচের সেরা দল। তারা বলের দখল নিয়ন্ত্রণ করেছে, আক্রমণ গড়েছে এবং জয়ের সম্পূর্ণ যোগ্য ছিল।

ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি বলেন, আর্জেন্টিনার এমন আচরণ তাকে বিস্মিত করেনি। তার ভাষায়, এর আগেও তারা একই ধরনের আচরণ করেছে। রুনি মনে করেন, স্পেনের কাছে কৌশল, লড়াই এবং ফুটবলীয় দক্ষতায় পিছিয়ে পড়ার হতাশা থেকেই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত আগ্রাসী আচরণের আশ্রয় নেন। তিনি এটিকে অত্যন্ত হতাশাজনক ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্টও আর্জেন্টিনার আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মাঠে একমাত্র লিওনেল মেসিই প্রকৃত ক্রীড়াসুলভ আচরণের পরিচয় দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন। হার্টের মতে, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর কোনো সংঘর্ষের সুযোগ ছিল না এবং আর্জেন্টিনার এমন আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

সাবেক ডিফেন্ডার মাইকা রিচার্ডস বলেন, ম্যাচ চলাকালে আর্জেন্টিনা লড়াই করলেও শেষ বাঁশির পর তাদের আচরণ ছিল বিব্রতকর। তার মতে, একজন পেশাদার ফুটবলারের কাছ থেকে এমন আচরণ কখনোই প্রত্যাশিত নয়।

আইটিভির বিশ্লেষণে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক গ্যারি নেভিলও আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতা প্রশংসনীয় হলেও সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে পারেদেসের আচরণ ছিল অত্যন্ত লজ্জাজনক।

নাটকীয় এই ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে স্পেন। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয় উদযাপনের মুহূর্ত ম্লান হয়ে যায় ম্যাচ-পরবর্তী বিশৃঙ্খল ঘটনায়। ফুটবলবিশ্বে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুধু স্পেনের বিশ্বজয় নয়, বরং পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণও।

সূত্রঃ এপি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

২০২০ সালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর প্যারিস

অনলাইন ডেস্ক

আইসিসির র‍্যাংকিংয়ে দুইয়ে মিরাজ, সেরা দশে মোস্তাফিজ

অনলাইন ডেস্ক