13.1 C
London
October 6, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে সব মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহার

ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে সব মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহার করা হয়েছে। ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিটিকে ঘিরে সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা রোববার নিশ্চিত করেছেন, ফেয়ারফোর্ডে থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘাঁটিতে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন একটি হুমকির কারণে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ দেখতে পাওয়ার পর পুলিশকে সতর্ক করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনকে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর যুক্তরাজ্য-ইরানি দ্বৈত নাগরিকত্বের ২৫ বছর বয়সী আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরান থেকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘উচ্চমাত্রার হুমকি’ রয়েছে। তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকা স্বাভাবিক। ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তটি ফেয়ারফোর্ডের সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা ব্রিটিশ কর্মকর্তারা অস্বীকার করেননি।

বিবিসি জানিয়েছে, বিমান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক নয়, বরং সামরিক পর্যায়ে নেওয়া একটি কার্যকরী সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের ব্রিটিশ সমকক্ষদের বিষয়টি জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

রোববার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোতে ফেয়ারফোর্ড থেকে বি-১ বোমারু বিমান উড্ডয়নের তথ্য দেখা যায়। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত একটি ষড়যন্ত্রের নতুন হুমকি সম্পর্কে মার্কিন কমান্ডাররা তথ্য পেয়েছিলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নির্দিষ্ট কিছু তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।

ফেয়ারফোর্ডের ঘটনার কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছিলেন, ওই ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। ইরান অবশ্য এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।

এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের বয়স ছিল ২৩ থেকে ২৫ বছর এবং তারা সবাই লন্ডনের ব্রিটিশ নাগরিক। তাদের প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অভিযোগে এবং পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের কৌশল ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনার জন্য এখান থেকে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার জন্য যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেয়ারফোর্ড থেকে সরিয়ে নেওয়া বি-১ বোমারু বিমানগুলো নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র বহন করছিল। প্রতিটি অভিযান লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান অনুযায়ী যাওয়া-আসাসহ প্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় নিতে পারত এবং উভয় দিকেই আকাশে জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এজরা কোহেন বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বি-১ বোমারু বিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ এবং এগুলোর সংখ্যা সীমিত হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি থেকে সেগুলো রক্ষা করা প্রয়োজন।

তবে ফেয়ারফোর্ড থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার ফলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এখন এসব বিমানকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড অথবা ইউরোপের অন্য কোনো ঘাঁটি থেকে অভিযান পরিচালনা করতে হতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি

এমকে

আরো পড়ুন

জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ব্রিটেনে নাগরিকত্ব আইনে কঠোরতা আনল সরকার

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের রেলযাত্রীদের জন্য রবিবার থেকে ভাড়া বৃদ্ধি

ব্রিটেনে অভিবাসন ইস্যুতে তীব্র বিতর্কঃ ‘বোরিসওয়েভ’ নিয়ে কড়া অবস্থানে নাইজেল ফারাজ