ব্রিটেনের ওয়েলসের একটি স্কুলে ক্লাস চলাকালে টয়লেটে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একজন তত্ত্বাবধায়ককে রাখার নিয়ম চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা টয়লেটে অতিরিক্ত সময় কাটানোয় পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে এবং টয়লেট এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এমন যুক্তিতে নতুন এই ব্যবস্থা নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু অভিভাবক।
ডেইলি মিররের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েলসের ব্লেনাউ গেন্ট এলাকার এব্বু ফাউর লার্নিং কমিউনিটিতে নতুন নিয়মটি চালু হয়েছে। স্কুলটির মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দিনে দুটি নির্দিষ্ট ক্লাসে এ নিয়ম কার্যকর থাকবে। বিরতির পরের ক্লাস এবং দুপুরের খাবারের বিরতির পরের ক্লাস চলাকালে কোনো শিক্ষার্থী টয়লেটে যেতে চাইলে স্কুলের শিক্ষার্থী কল্যাণ বিভাগের একজন কর্মীকে ডেকে তার সঙ্গে পাঠানো হবে।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের টয়লেটে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়নি। কর্মীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে টয়লেট পর্যন্ত যাবেন, কিন্তু টয়লেটের ভেতরে প্রবেশ করবেন না। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ক্লাস শুরুর আগেই বিরতি বা দুপুরের খাবারের সময় টয়লেট ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এক অভিভাবক। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক চাওয়া এবং তার ব্যবস্থা হতে হতে কোনো শিশুর দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। নিজের সন্তানকে টয়লেটে যাওয়ার সময় অন্য কারও তত্ত্বাবধানে রাখতেও তিনি চান না বলে মন্তব্য করেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের টয়লেটে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে গুরুত্বপূর্ণ পাঠদানের সময় নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি টয়লেট এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শেখার সময় বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্কুলটির এক মুখপাত্র বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। টয়লেট এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি এবং সেখানে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পাঠদানের সময় নষ্ট হওয়াই এ সিদ্ধান্তের কারণ।
মুখপাত্র আরও জানান, স্কুলে চারজন শিক্ষার্থী কল্যাণ ব্যবস্থাপক রয়েছেন, যারা শিক্ষার্থীদের টয়লেটে যাওয়ার সময় তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেন। তবে তারা টয়লেটের ভেতরে প্রবেশ করেন না। নিয়মটি শুধু বিরতির পরের ক্লাস এবং দুপুরের খাবারের পরের ক্লাসে কার্যকর থাকবে।
যেসব শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা নথিভুক্ত রয়েছে, তাদের জন্য এ নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তারা বিশেষ অনুমতিপত্র ব্যবহার করে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ক্লাস থেকে বের হয়ে টয়লেটে যেতে পারবে।
গত ৪ অক্টোবর পরিবারগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে নতুন ব্যবস্থার কথা জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে পাঠদানের সময় নষ্ট হওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
তিন বছর বয়স থেকে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে এব্বু ফাউর লার্নিং কমিউনিটি। এটি ওয়েলসের প্রথম এমন সরকারি স্কুল, যেখানে একই প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা দেওয়া হয়। তবে টয়লেট ব্যবহারের নতুন নিয়মটি কেবল মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

