TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে নতুন ক্ষমতা প্রয়োগ করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিল এইচএমআরসি

ব্রিটেনে কর বকেয়া আদায়ে কঠোর ক্ষমতা প্রয়োগ শুরু করেছে দেশটির রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ (এইচএমআরসি)। নতুন এই ক্ষমতা ব্যবহার করে ইতোমধ্যে ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি ২ হাজার ৩০০ পাউন্ড কেটে নিয়েছে সংস্থাটি। চিঠি পাঠানোর পরও বকেয়া কর আদায়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লেবার সরকারের অধীনে এইচএমআরসিকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অর্থ আদায়ের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ‘ডাইরেক্ট ডিডাকশন’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থা সাবেক চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস পুনরায় চালু করেছিলেন। বর্তমান চ্যান্সেলর জন হিলিও এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ ক্ষমতার আওতায় পড়েছেন ৭০ বছর বয়সী কর আইনজীবী সাইমন ইভান্স। সম্প্রতি এইচএমআরসি তাকে চিঠি দিয়ে জানায়, বকেয়া কর আদায়ের জন্য তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২ হাজার ৩০০ পাউন্ড তুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে ইভান্সের দাবি, এ বিষয়ে তার আগে কোনো বিরোধ ছিল না এবং এইচএমআরসি কিংবা তার দীর্ঘদিনের হিসাবরক্ষক কেউই তাকে বকেয়া করের বিষয়ে অবহিত করেননি।

তিনি বলেন, পরে জানতে পারেন, এইচএমআরসি তাদের লন্ডনের পুরোনো ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়েছিল। অথচ তারা বহু বছর আগে ওই ঠিকানা ছেড়ে দিয়েছেন। কোম্পানিজ হাউস ও করসংক্রান্ত নথিপত্রে তাদের বর্তমান ঠিকানা এবং হিসাবরক্ষকের ঠিকানা হালনাগাদ ছিল।

ইভান্স বলেন, তারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন। তাই কোনো বকেয়ার বিষয়ে আগে থেকে কিছু না জানিয়ে এত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াটা তাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রিটেনে প্রায় ৪৮ লাখ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার পাউন্ডের নিচে কর বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে এই বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড। প্রতি গ্রাহকের গড় বকেয়া প্রায় ৯৫০ পাউন্ড।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির কর বকেয়া ১ হাজার পাউন্ডের বেশি হলে নির্দিষ্ট শর্তে এইচএমআরসি তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অর্থ আদায় করতে পারে। তবে অর্থ তুলে নেওয়ার পরও অ্যাকাউন্টে অন্তত ৫ হাজার পাউন্ড অবশিষ্ট থাকতে হবে।

এদিকে কর বকেয়া আদায়ে বেসরকারি ঋণ আদায়কারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে এইচএমআরসির কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ৭ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

পাশাপাশি ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে আরও ৬৭০ জন কর যাচাই কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে কর ফাঁকি ও বকেয়া আদায়ে নজরদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সূত্রঃ বার্মিংহাম লাইভ

এমকে

আরো পড়ুন

সুপারমার্কেটের কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে হোম অফিস!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ফজরের নামাজ পড়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না ১৬ বছরের ইসমাইলেরঃ গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু

আদালতের রায়ে অনিশ্চয়তায় যুক্তরাজ্যের এপিং হোটেলের আশ্রয়প্রার্থীরা