যুক্তরাজ্যে মুসলিম বিদ্বেষ মোকাবিলায় লেবার সরকারের গৃহীত ‘অ্যান্টি-মুসলিম হোস্টিলিটি’ বা মুসলিমবিদ্বেষের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই নীতি প্রত্যাহারের দাবিতে পার্লামেন্টে একটি নতুন প্রাইভেট মেম্বার্স বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটির সমর্থকদের দাবি, সরকারের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বাকস্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে লেবার সরকার সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সংজ্ঞাটির উদ্দেশ্য কেবল মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্য চিহ্নিত করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা নয়।
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘অ্যান্টি-মুসলিম হোস্টিলিটি’ কোনো নতুন আইন নয় এবং এর মাধ্যমে নতুন কোনো ফৌজদারি অপরাধও সৃষ্টি করা হয়নি। এটি একটি অ-আইনগত বা নন-স্ট্যাচুটরি সংজ্ঞা, যা সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুসলিমবিদ্বেষমূলক আচরণ শনাক্ত ও মোকাবিলায় একটি অভিন্ন নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
লেবার সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ইসলাম ধর্ম বা অন্য কোনো ধর্মের সমালোচনা, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বিতর্ক, গবেষণা, ব্যঙ্গ কিংবা জনস্বার্থে মতামত প্রকাশ এই সংজ্ঞার আওতায় নিষিদ্ধ নয়। সংজ্ঞাটিতে স্পষ্টভাবে বাক্স্বাধীনতার অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে এবং এটি আদালতের ক্ষমতা বা বিদ্যমান আইনে কোনো পরিবর্তন আনে না।
তবে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি, রিফর্ম ইউকের কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং কিছু নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন এই সংজ্ঞার সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সরকারি সংস্থা বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ইসলাম-সম্পর্কিত সমালোচনাকে মুসলিমবিদ্বেষ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
এই প্রেক্ষাপটে পার্লামেন্টে একটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটির লক্ষ্য সরকারকে এই সংজ্ঞা প্রত্যাহার বা এর ব্যবহার বন্ধ করতে বাধ্য করা। তবে এটি সরকারি বিল নয় এবং আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অনুমোদন ও রাজকীয় সম্মতি প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবার সরকারের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি আইন হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবুও বিষয়টি যুক্তরাজ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং বাক্স্বাধীনতার ভারসাম্য নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি আইন হোক বা না হোক, এটি ব্রিটিশ রাজনীতিতে ধর্মীয় বিদ্বেষ মোকাবিলা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা কোথায় হওয়া উচিত—সে প্রশ্নকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
সূত্রঃ ইউকে পার্লামেন্ট
এম.কে

