9.8 C
London
October 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের পরিকল্পনাঃ লাগবে আইডি

ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে পরিচয়পত্র না থাকা এক লাখের বেশি কিশোর-কিশোরীও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ হারাতে পারে। আগামী বছরের বসন্তে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র না থাকায় ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের একটি অংশও সমস্যায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির অনলাইন নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত অফকমের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় দেড় লাখ কিশোর-কিশোরীর পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। বয়সসীমা নির্ধারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে এসব পরিচয়পত্র প্রয়োজন হতে পারে। ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না পড়লেও বয়স প্রমাণ করতে না পারায় তাদের কেউ কেউ প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করতে পারবে না।

অস্ট্রেলিয়ার আদলে প্রস্তাবিত এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবসহ একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম আসতে পারে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার এখনো চূড়ান্তভাবে জানায়নি, কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।

বয়স যাচাইয়ের চারটি কার্যকর পদ্ধতির কথা জানিয়েছে অফকম। এগুলো হলো—সরকারি পরিচয়পত্রের সঙ্গে সরাসরি তোলা সেলফির মিল যাচাই, ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকের বয়স নিশ্চিত করা, ইয়াং স্কট কার্ডের মতো সরকারি ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবহার এবং সেলফি বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমান করা।

তবে মুখমণ্ডলের ছবি বিশ্লেষণ করে বয়স অনুমানের পদ্ধতিতে কয়েক বছরের ব্যবধান থাকতে পারে। এ কারণে অন্যান্য পদ্ধতির পাশাপাশি সরকারি পরিচয়পত্রকে বিকল্প নিশ্চয়তা হিসেবে প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অফকমের ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র নেই, তাদের বয়সসীমা নির্ধারিত পরিষেবা ব্যবহারের জন্য পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মেলানি ডজ সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও কিছু কিশোর-কিশোরী বিধিনিষেধ এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর এমন ঘটনা দেখা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরী নিয়ম ভেঙে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেছে। ৯০০ অভিভাবকের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার পর ৩১ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের সন্তানদের অন্তত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আইন কার্যকরের আগে এই হার ছিল ৪৯ শতাংশ।

অফকমের প্রধান নির্বাহী বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ্যপান ঠেকাতে আইন থাকলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। একইভাবে, উৎসাহী কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে প্ল্যাটফর্মগুলো বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমাতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের সামাজিক জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগবে এবং এ ক্ষেত্রে সবারই ভূমিকা রাখতে হবে।

সরকার বছরের শেষ নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রকাশ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বয়স যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণে পরামর্শ গ্রহণ শুরু করেছে অফকম। পরবর্তী সময়ে কোন পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে সংস্থাটির।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের স্কুলে নতুন নিয়ম, মেয়েদের পিরিয়ড হলে দেখাতে হবে রেড কার্ড

নিরাপদ সড়কের জন্য ব্রিটেনের মসজিদের প্রচারণা

লন্ডনে নর্দমায় পাওয়া গেল পোলিও ভাইরাস!