10.3 C
London
October 22, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ক্ষমতার মেরুকরণ, ইরান–চীন জোট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ-অবরোধ ও ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির নীতির বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছে চীন।

বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি জোরালো সমর্থন জানানো হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুন এক কূটনৈতিক বার্তায় জানান, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, চীনা বাণিজ্যিক ও নৌযানগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো বহিরাগত শক্তি যেন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে।

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিচালিত হয়, যা চীনের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের এই অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ইরান নীতির বিরুদ্ধে কৌশলগত পাল্টা বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন ইরানকে নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে স্বল্প পাল্লার বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিম্ন উচ্চতায় চলমান লক্ষ্যবস্তুর জন্য বড় হুমকি হতে পারে। যদিও এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

সম্প্রতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার পেছনে একাধিক সামরিক ঘটনার কথাও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আকাশপথে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এসব ঘটনার সঠিক তথ্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।

চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস অবশ্য অস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, চীন কোনো সংঘাতরত পক্ষকে অস্ত্র দেয় না এবং তারা কূটনৈতিক সমাধান ও স্থিতিশীলতার পক্ষেই অবস্থান করছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জ্বালানি বাণিজ্য এবং কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে এই জোটকে বৈশ্বিক শক্তি ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করবে প্রধান পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সামরিক অবস্থানের ওপর।

সূত্রঃ এপি

এম.কে

আরো পড়ুন

ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণ, পদত্যাগে ‘বাধ্য’ হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক

সকল গ্যাজেটে একই ধরনের চার্জার নিয়ে আলোচনা

রোমহষর্ক তথ্য দিলেন এক ব্রিটিশ নাগরিক