24 C
London
June 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুয়া সনদ নিয়ে ভর্তি চেষ্টার অভিযোগঃ তালিকায় বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আবেদন করা হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুয়া বা ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে শিক্ষা-যাচাইকরণ প্রতিষ্ঠান কোয়ালিফিকেশন চেক। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৪৫টি ব্রিটিশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি-প্রস্তাব পাওয়া ৫৫ হাজার আন্তর্জাতিক আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ তাদের আবেদনে উল্লেখিত ফলাফল বা ডিগ্রির সঙ্গে প্রকৃত তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো এখনও আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যথেষ্ট কঠোরভাবে যাচাই করে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে এখন ভুয়া সনদ ও নথি তৈরি করা আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে যাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গ্রহণে যুক্তরাজ্যের নীতিমালা এবং স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। চলতি মাসেই ব্রিটিশ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য স্টুডেন্ট ভিসার স্পনসর হওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মানদণ্ড কার্যকর করেছে।

কোয়ালিফিকেশন চেকের প্রধান নির্বাহী এড হল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে যাচাই করা উচিত। তার মতে, শুধু জমা দেওয়া সনদের ওপর নির্ভর করলে প্রতারণা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া সনদ তৈরি করা অত্যন্ত সহজ হওয়ায় শক্তিশালী যাচাই ব্যবস্থা অপরিহার্য।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার দাবি করা হয়েছে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে ঘানা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং কানাডার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি আবেদনকারীদের দাবি করা পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান নির্দেশ করে; আবেদনকারীদের জাতীয়তা বা নিজ দেশের পরিচয় নয়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ভুয়া তথ্য দেওয়া আবেদনকারীদের প্রায় ৪০ শতাংশ জাল নথিপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় ২০ শতাংশ আবেদনকারী ভুল ফলাফল দাবি করেছেন অথবা প্রয়োজনীয় একাডেমিক রেকর্ডই উপস্থাপন করতে পারেননি।

সবচেয়ে বেশি ভুয়া যোগ্যতা ব্যবহার করা হয়েছে ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভর্তি আবেদনে। অনেক আবেদনকারী পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে ফটোশপ করা সনদ, ভুয়া ওয়েবসাইট কিংবা নকল কিউআর কোডের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। কিছু ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরের ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ভুয়া উপস্থিতি বা ফলাফল নিশ্চিত করার অভিযোগও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিভার্সিটিজ ইউকে বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বৈধ ও সঠিকভাবে আবেদন করে এবং তারা যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনটি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভিসা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধি মেনে চলতে উল্লেখযোগ্য সময়, জনবল ও অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি সমন্বয়কারী সংস্থা ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিশনস সার্ভিস (ইউসিএএস) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের বাইরে বসবাসকারী ১ লাখ ৫১ হাজার ২১০ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৫টি আবেদন সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কমে ৪৩৫-এ নেমে এসেছে, যেখানে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০ জন।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক নির্ভরতা বজায় থাকলেও আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ও যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভুয়া আবেদন প্রতিরোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন ব্রিটিশ উচ্চশিক্ষা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্রঃ ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

ভিসা নিয়ে বড় ঘোষণা দিলো যুক্তরাজ্য

কিয়ার স্টারমারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংস্কার

লন্ডনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধের প্রতিবাদে গ্রেপ্তারের রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা