TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিঃ বার্নহ্যামের প্রতি আলফ ডাবসের বার্তা

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তার প্রস্তাবিত কঠোর আশ্রয় ও অভিবাসন নীতি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা ও হাউস অব লর্ডসের সদস্য আলফ ডাবস। নাৎসি নিপীড়নের সময় শিশু অবস্থায় যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া ডাবস বলেছেন, সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সামনে স্টারমার সরকারের শরণার্থী ও আশ্রয়নীতি সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৯৩ বছর বয়সী আলফ ডাবস বলেন, শাবানা মাহমুদের দক্ষতা মন্ত্রিসভার অন্য কোনো দপ্তরে বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে নতুন প্রধানমন্ত্রী আশ্রয় ও অভিবাসন নীতিতে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, এমন এক সময়ে যখন লেবার পার্টির সবচেয়ে বেশি ঐক্য প্রয়োজন, তখন শাবানা মাহমুদের বর্তমান নীতিগুলো সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক নয়। বরং মানবাধিকার, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের নীতি গ্রহণ করা উচিত।

আলফ ডাবসের মতে, স্টারমার সরকারের অন্যতম বড় ভুল ছিল আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ। তিনি বলেন, অতীতে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের ওপর নতুন স্থায়ী বসবাসের (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) নিয়ম প্রয়োগ করা অন্যায় এবং এটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের উচিত ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি অক্ষুণ্ণ রাখা। বর্তমান প্রস্তাবগুলো সেই প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

ডাবস শাবানা মাহমুদের পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা স্থগিত করার সিদ্ধান্তেরও কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগামী মঙ্গলবার সংসদে উত্থাপিত হতে যাওয়া নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন বিলে নির্বাসনের আগে শিশুদের হাতকড়া পরানো কিংবা অসুস্থ শিশুদেরও দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া সহজ করার বিধান রাখা হয়েছে।

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ডাবস বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘কিন্ডারট্রান্সপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পান। বর্তমান প্রস্তাবগুলো তখন কার্যকর থাকলে তার মতো শিশুদের হয়তো আশ্রয়ই মিলত না। এমনকি যুক্তরাজ্যে পরিবারের সদস্য থাকা সত্ত্বেও তাদের হাতকড়া পরিয়ে ফেরত পাঠানো হতে পারত।

তিনি বলেন, এগুলো ব্রিটিশ মূল্যবোধ কিংবা লেবার পার্টির আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আশ্রয়প্রার্থী শিশুদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রশংসা করে ডাবস বলেন, তার প্রচারণা ছিল ইতিবাচক, জনমুখী এবং ঐক্যের বার্তাবাহী। তাই ক্ষমতায় এসে সেই আশাবাদ নষ্ট করা রাজনৈতিকভাবে বড় ভুল হবে।

তিনি আরও বলেন, লেবার পার্টির জন্য এটি নতুনভাবে শুরু করার একটি সুযোগ। শরণার্থীদের ‘আক্রমণকারী’, ‘অপরিচিতদের দ্বীপ’ বা ‘দেশকে ছিন্নভিন্ন করছে’—এ ধরনের ভাষা পরিহার করে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত।

ডাবসের ভাষায়, যুক্তরাজ্যের সীমান্ত অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তবে তা যেন নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে নয়। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতাও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তিনি ইউরোপজুড়ে আশ্রয় ও শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় আরও সমন্বিত সহযোগিতারও আহ্বান জানান।

অন্যদিকে শাবানা মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলেছে, তার প্রস্তাবিত নীতিগুলো যুক্তরাজ্যের সীমান্তে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য এবং এগুলো লেবার পার্টির মূল্যবোধের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। মাহমুদ আগেও দাবি করেছেন, কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে দেশটির আশ্রয়ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও সমর্থন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শাবানা মাহমুদের কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেই ব্যাপক মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দলটির একাধিক এমপি ও সিনিয়র নেতা ইতোমধ্যে এসব নীতির বিরোধিতা করেছেন। এর মধ্যেই আলফ ডাবসের প্রকাশ্য অবস্থান দলীয় বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যকে রাশিয়ার সম্ভাব্য গোপন হামলার হুমকি

যুক্তরাজ্যে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ১০ মিলিয়ন ছাড়ালো

ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে যুক্তরাজ্যেরে মন্ত্রিসভায় বিরোধ চরমে