TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ইমিগ্রেশন নীতিতে সরকারের একক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নঃ হাউস অব লর্ডসের অসন্তোষ

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাউস অব লর্ডসের সংসদীয় কমিটি। ইমিগ্রেশন রুলসের বাইরে কোনো বিশেষ ছাড় বা সুবিধা চালু করার ক্ষেত্রে সংসদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত থাকায় বর্তমান ব্যবস্থাকে ‘অসন্তোষজনক’ বলে মন্তব্য করেছে কমিটি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ছাড় চালু করা হলে সংসদকে অবহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হাউস অব লর্ডসের সেকেন্ডারি লেজিসলেশন স্ক্রুটিনি কমিটি জানায়, ইমিগ্রেশন রুলসের বাইরে ‘প্রকাশিত ছাড়’ (Published Concessions) দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদীয় নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, এসব ছাড় কার্যকর করার জন্য সংসদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

এর আগে গত মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ইমিগ্রেশন রুলস পরিবর্তনের ব্যাপক ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল কমিটি। তাদের মতে, সংসদের অনুমোদন কিংবা আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণ ছাড়াই অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনার সুযোগ সরকারের হাতে রয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির চিঠির জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী লর্ড কলিন্স অব হাইবারি স্বীকার করেছেন, ইমিগ্রেশন রুলসের বাইরে প্রকাশিত কোনো ছাড় বাতিল বা প্রত্যাহার করার জন্য সংসদের হাতে নির্দিষ্ট কোনো আইনি ব্যবস্থা নেই।

মন্ত্রী জানান, সংসদীয় প্রশ্ন, বিতর্ক, কমিটির প্রতিবেদন এবং মন্ত্রীদের সঙ্গে চিঠিপত্রের মাধ্যমে সরকারকে কোনো ছাড় পরিবর্তন, প্রত্যাহার কিংবা ইমিগ্রেশন রুলসে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিতে পারে সংসদ।

তবে শুধু সরকারকে পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার সুযোগ থাকাকে যথেষ্ট মনে করছে না কমিটি। তাদের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ বা বাতিল করার ব্যবস্থা না থাকলে সরকারের ওপর সংসদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সীমিত হয়ে পড়ে। সাধারণভাবে প্রযোজ্য কোনো বিশেষ ছাড় পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইমিগ্রেশন রুলসে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে তা নিয়মিত সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অনুমোদিত হয়।

অন্যদিকে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো সাধারণ ছাড় চালু করা হলে সংসদকে অবহিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন লর্ড কলিন্স। তিনি জানিয়েছেন, এসব ছাড় সরকারি ওয়েবসাইট জিওভি ডট ইউকে-তে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি নতুন কোনো ছাড় চালু হলে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিকেও সরাসরি জানানো হবে। মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে কমিটি।

ইতোমধ্যে চালু থাকা সাধারণ ছাড়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ইমিগ্রেশন রুলসে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন কি না, তা পর্যালোচনার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন লর্ড কলিন্স।

তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি ছাড়ের পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো বিশেষ ছাড়ের প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়েছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা হবে।

কমিটি এই পর্যালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চের শেষ নাগাদ অথবা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর—যেটি আগে ঘটে—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অগ্রগতির প্রতিবেদন চেয়েছে তারা।

কমিটির মতে, কোনো বিশেষ ছাড় ইমিগ্রেশন রুলসে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার পেছনে পূর্ণাঙ্গ কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। বিদ্যমান ও ভবিষ্যতের সব ছাড়ের ক্ষেত্রে সংসদের ভূমিকা বিবেচনায় রাখা জরুরি।

বিশেষ পরিস্থিতিতে ইমিগ্রেশন রুলসের বাইরে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন লর্ড কলিন্স। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের পর জরুরি পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয়দের জন্য বিশেষ অভিবাসন কর্মসূচি চালুর উদাহরণ তুলে ধরেছেন।

এ ছাড়া ট্রানজিট উইদাউট ভিসা (টিডব্লিউওভি) ব্যবস্থার একটি বিধান ভুলবশত ইমিগ্রেশন রুলস থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার পর সেটি পুনর্বহালের ক্ষেত্রেও এই ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছিল।

তবে ট্রানজিট ভিসা সংক্রান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংসদীয় কমিটি। বিশেষ করে ২০১২ সালের সুপ্রিম কোর্টের ‘মুনির’ মামলার রায়ের ব্যাখ্যা যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিটির মতে, ওই রায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ক্ষমতাকে সীমাহীন বলা হয়নি। কোনো পরিবর্তন আনুষ্ঠানিকভাবে ইমিগ্রেশন রুলস সংশোধনের মাধ্যমে করা হবে, নাকি বিশেষ ছাড় হিসেবে কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট নীতির ধরন এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে নমনীয়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর।

লর্ড কলিন্স জানিয়েছেন, ট্রানজিটসংক্রান্ত বিধানগুলো আবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইমিগ্রেশন রুলসে ফিরিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্রঃ ইলেকট্রনিক ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক

এমকে

আরো পড়ুন

লন্ডনে রাস্তায় ৬৫ ডিগ্রি, খেলার মাঠে ৫৩ ডিগ্রিঃ তীব্র গরমে জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি

যুক্তরাজ্যের এসাইলাম আইনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাবঃ বিচারকদের ক্ষমতা পাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকেরা

যুক্তরাজ্যে বাজেট আগাম আপলোড বিতর্কে চেয়ারম্যান রিচার্ড হিউজের পদত্যাগ