উত্তর লন্ডনের নিসডেন একটি মিশ্র বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের কাছাকাছি হান্না ক্লোজ এলাকায় এই আগুনের ঘটনায় ব্যাপক ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুলসংখ্যক অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও ফায়ার ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।
লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের নেতৃত্বে প্রায় ১২৫ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং ২০টি ফায়ার ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতার কারণে ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
আগুন থেকে তৈরি হওয়া ঘন ধোঁয়া আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ধোঁয়ার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে থাকা কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের কারণে শিল্প এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়া ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব শুধু ওই শিল্প এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে মেট্রোপলিটন লাইন সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে জুবিলি লাইনের উইলসডেন গ্রিন ও ওয়েম্বলি পার্কের মধ্যবর্তী অংশে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ওই এলাকার বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে এবং যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে ম্যারিলিবোন স্টেশনকে ঘিরে রেল চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন এলাকায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় কর্মস্থল ও অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকা উত্তর লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত অঞ্চল এবং এখানে বড় ধরনের অনুষ্ঠান বা খেলাধুলার আয়োজন থাকলে বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণে স্থানীয় সড়ক ও গণপরিবহনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগুন নেভানোর পাশাপাশি আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং অপ্রয়োজনে আগুনের উৎসের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণে কোনো প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এর সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

