যুক্তরাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রায় সব ধরনের সরকারি কল্যাণ ভাতা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। দলটির নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিরা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, হাউজিং বেনিফিট, পেনশন ক্রেডিট, জবসিকার্স অ্যালাউন্স, চাইল্ড বেনিফিট, বিনামূল্যের শিশু পরিচর্যা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অধিকাংশ সরকারি সহায়তা আর পাবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা ইইউ সেটেলড স্ট্যাটাসধারী নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে দলটি জানিয়েছে।
দলটির দাবি, এই পদক্ষেপ বৃহত্তর ৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের কল্যাণ ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার অংশ। তাদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভাতা বন্ধ করেই পাঁচ বছরের মধ্যে বছরে প্রায় ২১ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
রিফর্ম ইউকের ভাষ্য অনুযায়ী, “ব্রিটিশ জনগণকে আগে” রাখার নীতির অংশ হিসেবেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলটি আরও দাবি করেছে, বর্তমান ব্যবস্থা ব্রিটিশ করদাতাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভাতা সীমিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, ইইউ সেটেলড স্ট্যাটাসধারীদের সুবিধা বাতিল করতে হলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য–ইইউ চুক্তির কিছু অংশ পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের পারস্পরিক অধিকারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পরপরই লেবার পার্টি, প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী এবং অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করা দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি নাগরিকদের কল্যাণ সুবিধা কেড়ে নেওয়া বৈষম্যমূলক এবং এতে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
রিফর্ম ইউকের এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন দলটি অভিবাসন ও কল্যাণনীতি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এর আগে দলটি পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অধিকার (আইএলআর) বাতিলের প্রস্তাব, বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগ ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

