21.8 C
London
September 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে তেল-গ্যাস নিয়ে কঠিন পরীক্ষায় অ্যান্ডি বার্নহ্যামঃ সিদ্ধান্ত ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভের আশঙ্কা

বিদ্যুৎ বিল থেকে মূল্য সংযোজন কর তুলে দেওয়া, বাসভাড়া ২ পাউন্ডে সীমাবদ্ধ করা, পানশালা ও সংগীত আয়োজনের জায়গাগুলোর ব্যবসায়িক কর কমানো এবং অবৈধ বর্জ্য ফেলার স্থানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা—অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের এসব সিদ্ধান্তে ব্যাপক আপত্তি তৈরি হয়নি। তবে এবার তার সামনে এমন একটি সিদ্ধান্ত এসেছে, যেটি নেওয়ার পর দেশের একটি বড় অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।

আগামী সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে বার্নহ্যামের সামনে কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো একে একে আসবে। কর বাড়ানো, সরকারি ব্যয় কমানো কিংবা দুটোই করা—কীভাবে অর্থনীতির ভারসাম্য রাখা হবে, তা তাকে ঠিক করতে হবে। পাশাপাশি ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ বন্ধ করা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের কঠোর অভিবাসন নীতিকে কতটা সমর্থন করা এবং ব্রেক্সিট থেকে কতটা পিছিয়ে আসা হবে—এসব বিষয়েও তাকে অবস্থান নিতে হবে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে উত্তর সাগরে নতুন করে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া। জ্যাকডাও গ্যাসক্ষেত্র ও রোজব্যাংক তেলক্ষেত্রে উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পরামর্শ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা।

প্রকল্প দুটি অনুমোদন করলে বার্নহ্যাম পরিবেশবাদী ও জলবায়ু আন্দোলনকারীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে অনুমোদন না দিলে তেল-গ্যাস শিল্প, সম্ভাব্য কর্মসংস্থান ও রাজস্বের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড নতুন তেল ও গ্যাস উত্তোলনের বিরোধিতা করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। এ অবস্থানের কারণে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

তবে যুক্তরাজ্যে এখনো প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ গ্যাসচালিত বয়লার ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ফলে আগামী কয়েক বছর ব্রিটেনের জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজন থাকবেই। এ কারণে সমর্থকদের যুক্তি, বিদেশ থেকে আরও বেশি জ্বালানি আমদানি করার পরিবর্তে দেশের নিজস্ব মজুত ব্যবহার করলে কর্মসংস্থান ও কর রাজস্ব বাড়তে পারে।

অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুযায়ী, জ্যাকডাও ও রোজব্যাংক প্রকল্প দুটি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রায় ২৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।

তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রকল্প দুটির অর্থনৈতিক সুবিধার তুলনায় পরিবেশগত ক্ষতি বেশি হতে পারে। তাদের মতে, নতুন করে জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলনের অনুমোদন জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বার্নহ্যাম যদি প্রকল্প দুটি অনুমোদন করেন, তাহলে তার নিজের লেবার পার্টির বামপন্থী সংসদ সদস্যদের কাছ থেকেও বিরোধিতা আসতে পারে। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কির দলও এর তীব্র সমালোচনা করতে পারে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও জলবায়ু আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য অনুমোদনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সাম্প্রতিক গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। পরিবেশবাদীরা এসব ঘটনাকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করে নতুন তেল-গ্যাস উত্তোলনের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান আরও জোরালো করছেন।

মিলিব্যান্ড একসময় রোজব্যাংক প্রকল্পকে ‘জলবায়ুর বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। বার্নহ্যাম যদি প্রকল্পটি অনুমোদন করেন, তাহলে একই ধরনের অভিযোগ এবার তার বিরুদ্ধেও উঠতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে অংশ ১ শতাংশেরও কম। প্রকল্পের সমর্থকদের যুক্তি, ব্রিটেন নিজে তেল ও গ্যাস উত্তোলন বন্ধ করলেও দেশের জ্বালানি চাহিদা একদিনে শেষ হবে না; তখন বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। তাদের মতে, নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করলে অন্তত কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুবিধা দেশের ভেতরে রাখা সম্ভব।

ফলে উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস নিয়ে বার্নহ্যামের সিদ্ধান্ত তার সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুমোদন দিলে পরিবেশবাদীদের ক্ষোভ, আর অনুমোদন না দিলে অর্থনৈতিক সুবিধার পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলোর অসন্তোষ—দুই দিকেই ঝুঁকি রয়েছে।

এ কারণেই অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জন্য এবার পরিস্থিতি আগের মতো সহজ নয়। এতদিন জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস প্রকল্পের মতো বিষয়ে তাকে এমন একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে, যেখানে অন্য পক্ষের ক্ষোভ এড়ানোর সুযোগ প্রায় নেই।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

লেবার পার্টির বেনিফিট কাটছাঁট যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতিঃ দাতব্য সংস্থা

যুক্তরাজ্যে রিফর্ম সরকার ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনে করছাড়ঃ ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করবেন জেনরিক

তুষারপাতে বিপর্যস্ত লন্ডন