যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রিফর্ম ইউকের নির্বাচনী প্রচারপত্র ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ। ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনের আগে এক ডাককর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, তিনি রিফর্ম ইউকের দরজায়-দরজায় বিতরণের জন্য পাঠানো সব লিফলেট ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে রয়্যাল মেইল।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে রয়্যাল মেইলের কর্মীদের জন্য পরিচালিত একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে। প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের ‘রয়্যাল মেইল চ্যাট’ নামের ওই গ্রুপে এক ব্যক্তি লিখেন, “আজ আমার ডেলিভারি অফিসে রিফর্ম পার্টির ডি-টু-ডি ছিল। আমি সবগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছি। তারা চাইলে আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করুক, আমি কিছুই পরোয়া করি না।”
এখানে ‘ডিও’ বলতে ডেলিভারি অফিস এবং ‘ডি-টু-ডি’ বলতে ঠিকানাবিহীন দরজায়-দরজায় বিতরণের জন্য পাঠানো প্রচারসামগ্রী বোঝানো হয়েছে। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের কোন অঞ্চলে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে রয়্যাল মেইলের প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টার কোকরেনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। দলটির আইনগত প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শনিবার ওই স্ক্রিনশট তাদের হাতে পৌঁছায় এবং তা “ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক প্রচারসামগ্রী ধ্বংসের স্পষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রয়্যাল মেইলের কাছে অর্পিত নির্বাচনী লিফলেট ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা বা বিতরণ না করা শুধু আইনগত দায়িত্ব লঙ্ঘন নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।
রিফর্ম ইউকে তিন দিনের মধ্যে একটি “তাৎক্ষণিক ও পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ তদন্ত” দাবি করেছে। পাশাপাশি ঘটনার ফলে দলটির যে ক্ষতি ও বিঘ্ন ঘটেছে, তার জন্য রয়্যাল মেইল কী ধরনের ক্ষতিপূরণ দেবে, তার লিখিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
দলটি আরও দাবি করেছে, এ ঘটনায় জড়িত বা এমন আচরণকে সমর্থনকারী কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত পর্যন্ত—নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
এছাড়া ভবিষ্যতে রিফর্ম ইউকের নির্বাচনী প্রচারপত্র যথাযথভাবে অগ্রাধিকার দিয়ে বিতরণ, কঠোর তদারকি এবং এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লিখিত নিশ্চয়তাও চেয়েছে দলটি।
রয়্যাল মেইল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এ দায়িত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “আমরা ডাক ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ না করার মতো আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করি না। আমরা অভিযোগটি তদন্ত করছি এবং সব প্রার্থীর জন্য নিরপেক্ষভাবে ডাক পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অটল আছি।”
রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “রয়্যাল মেইল পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে—এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনের আগে এমন অভিযোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ডাকযোগে প্রচারণা এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তখন এ ধরনের ঘটনা নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, ‘রয়্যাল মেইল চ্যাট’ নামের ফেসবুক গ্রুপটি রয়্যাল মেইলের কর্মী, অংশীদার এবং ডাকবাহকদের প্রতিনিধিত্বকারী কমিউনিকেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত। এখন তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগটি নিছক ব্যক্তিগত দম্ভ ছিল, নাকি বাস্তবেই একটি বড় নির্বাচনী অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

