TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণঃ ফ্রান্সেও আগুন—ইউরোপজুড়ে রুশ নাশকতার আতঙ্ক

যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে অগ্নিকাণ্ড, নাশকতা ও সন্দেহজনক তৎপরতার ঘটনা সামনে আসায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

লিভারপুলের ওল্ড সোয়ান এলাকায় বুধবার সকালে রক কোর্ট সার্জারির কার পার্কে থাকা একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সকাল প্রায় ৮টা ২০ মিনিটে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মার্সিসাইড ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দমকলকর্মীরা সেখানে পৌঁছে দেখতে পান, বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি আগুনে জ্বলছে এবং আগুন একটি গাড়িতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে দুটি হোস-রিল জেট দিয়ে কাজ করেন দমকলকর্মীরা।

ঘটনার পর সেন্ট অসওয়াল্ডস স্ট্রিটের এজ লেন থেকে প্রেসকট রোড পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে প্রায় ৩০ মিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। কাছের একটি ওয়াক-ইন চিকিৎসাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সেটিও খালি করে দেওয়া হয়। পুলিশ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করে।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী স্কটিশ পাওয়ারের একজন প্রতিনিধিও ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করেন। উপকেন্দ্রটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পর আগুন সম্পূর্ণ নেভানোর কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—এটি কি নিছক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত নাশকতা রয়েছে?

ইউরোপের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প ও জ্বালানি খাতকে ঘিরে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। জার্মানি গতকাল লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন-সম্পর্কিত একটি ব্যর্থ হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। মস্কো অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এরই মধ্যে ন্যাটো ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ কর্মকাণ্ড নিয়ে সতর্ক করেছেন। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেছেন, ইউরোপের অবকাঠামো ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

যুক্তরাজ্যও এর বাইরে নয়। দেশটির ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, রুশ-সমর্থিত হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে আসছে।

গত আগস্টে রাশিয়া যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। মস্কো বলেছিল, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে সহায়তা অব্যাহত থাকলে ব্রিটিশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

ফ্রান্সেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে আরও সরাসরি এবং সহিংস হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রাখতে হবে।

ফলে লিভারপুলের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিস্ফোরণ এবং ফ্রান্সে আগুনের খবর একই সময়ে সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সমন্বিত যোগসূত্র বা রুশ সংশ্লিষ্টতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।

ইউরোপ যখন রাশিয়া-সম্পৃক্ত সম্ভাব্য নাশকতা ও হাইব্রিড হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তখন লিভারপুলের মতো একটি বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে বিস্ফোরণ নিঃসন্দেহে নিরাপত্তা প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের কাউন্সিলগুলো গৃহহীন কিশোর-কিশোরীদের দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হচ্ছে

যুক্তরাজ্যে অর্থনৈতিক মন্দায় বন্ধ হয়ে গেছে আরও ২০০০ ক্ষুদ্র ব্যবসা

যুক্তরাজ্যে নতুন আবাসনে পার্কিং স্পেস কমানোর সিদ্ধান্ত: চালকদের চাপে ফেলছে লেবার সরকার