TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভুয়া আইনজীবীদের দৌরাত্ম্যঃ প্রতারণা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু অসাধু আইন পরামর্শদাতা অভিবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে তাদের সমকামী হিসেবে পরিচয় দিতে সহায়তা করছে, যাতে তারা আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ পায়।

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং এতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া আশ্রয় আবেদনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যেসব অভিবাসীর শিক্ষার্থী, কর্মী বা ভ্রমণ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাদেরকে কৃত্রিম গল্প বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কীভাবে জাল প্রমাণ তৈরি করতে হয়—যেমন ছবি, সমর্থনপত্র এবং চিকিৎসা নথি—সেসব বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

এরপর তারা নিজেদের সমকামী দাবি করে আশ্রয়ের আবেদন করছে এবং বলছে, নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশে সমকামিতা আইনত দণ্ডনীয় হওয়ায় এই বিষয়টি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে এই আশ্রয় ব্যবস্থা মূলত তাদের জন্য, যারা প্রকৃতপক্ষে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হয়ে নিজ দেশে নিরাপদে থাকতে পারে না।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আশ্রয় আবেদন সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশই এমন ব্যক্তি, যারা আগে থেকেই দেশটিতে অবস্থান করছিল এবং পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, লিঙ্গ বা যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতিত মানুষের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষা ব্যবস্থার অপব্যবহার অত্যন্ত নিন্দনীয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে দেশে থাকার চেষ্টা করলে আশ্রয় আবেদন বাতিল করা হবে, সরকারি সহায়তা বন্ধ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জরুরি তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী দলগুলো বলছে, আশ্রয় ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে কেবল প্রকৃত ভুক্তভোগীরাই আশ্রয় পায়।
মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের জালিয়াতি প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে সত্যিকারের নির্যাতিত ব্যক্তিদের আবেদন আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে পাকিস্তানি নাগরিকদের হার বেশি। ২০২৩ সালে এই ধরনের আবেদনের ৪২ শতাংশই ছিল পাকিস্তানিদের, যদিও মোট আবেদনের মধ্যে তাদের অংশ ছিল মাত্র ৬ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, আশ্রয় ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বাড়তে পারে, যা পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করবে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

কার্ডিফে তরুণীকে যৌন হামলাঃ সিরীয় আশ্রয়প্রার্থীর কারাদণ্ড ও বহিষ্কারের নির্দেশ

যুক্তরাজ্যে ডাউনিং স্ট্রিটে বড় রদবদলঃ স্টারমারের দলে ব্লেয়ার আমলের অভিজ্ঞদের প্রত্যাবর্তন

গাজায় মানবিক সংকটের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত