লন্ডনকে ঘিরে অপরাধ, অভিবাসন ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ব্রিটেনে জনমতের সঙ্গে বাস্তব পরিসংখ্যানের বড় ব্যবধানের তথ্য উঠে এসেছে কিংস কলেজ লন্ডনের নতুন এক গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে রিফর্ম ইউকের সমর্থকদের মধ্যে লন্ডনের অপরাধ পরিস্থিতি ও মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে অতিরঞ্জিত ধারণা তুলনামূলকভাবে বেশি।
জরিপে অংশ নেওয়া ৩৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় শরিয়া আইন প্রভাবশালী এবং সেখানে অমুসলিমরা প্রবেশ করতে পারেন না। অন্যদিকে ৩৬ শতাংশ মানুষ এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।
অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও জনধারণার সঙ্গে বাস্তবতার বড় পার্থক্য পাওয়া গেছে। গড়ে মানুষ মনে করেন, প্রতি বছর লন্ডনের ৩০ শতাংশ বাসিন্দা অপরাধের শিকার হন। লন্ডনে বসবাসকারী ব্যক্তিদের গড় অনুমানও ২৫ শতাংশ। কিন্তু গবেষকদের দেওয়া প্রকৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে অপরাধের শিকার হওয়ার হার ছিল ১২ দশমিক ২ শতাংশ।
লন্ডনের মুসলিম জনসংখ্যা নিয়েও মানুষের ধারণা বাস্তব সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। জরিপে গড় অনুমান ছিল ৩৫ শতাংশ, যেখানে প্রকৃত জনসংখ্যার হার প্রায় ১৫ শতাংশ। রিফর্ম ইউকের সমর্থকদের অনুমান ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ এবং কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থকদের অনুমান প্রায় ৪০ শতাংশ।
গবেষকরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে লন্ডন সম্পর্কে মানুষের ধারণার পার্থক্য স্পষ্ট। কিংস কলেজ লন্ডনের পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ববি ডাফি বলেন, লন্ডন এখন অপরাধ, অভিবাসন ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তার মতে, মানুষ শুধু রাজধানী সম্পর্কে ভিন্ন মত পোষণ করছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করছে।
এদিকে লন্ডনকে ঘিরে নেতিবাচক বয়ান ব্রিটিশ রাজনীতির বাইরেও প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লন্ডনের কিছু এলাকায় পুলিশ যেতে ভয় পায় এবং সেখানে আইনশৃঙ্খলা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি লন্ডন শরিয়া আইনের দিকে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন। নতুন জরিপে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ তার এমন ধারণার সঙ্গে একমত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
গবেষণায় রিফর্ম ইউকের সমর্থকদের লন্ডনের অপরাধ ও মুসলিম জনসংখ্যা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অতিরঞ্জিত ধারণা পোষণকারী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, লন্ডনকে ‘অবনতির পথে’ দেখানোর রাজনৈতিক ও সামাজিক বয়ান মানুষের ধারণায় প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লন্ডনকে ঘিরে অপরাধ, অভিবাসন ও বিভাজনমূলক বক্তব্যের বিস্তার বেড়েছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষণা বলছে, বাস্তব পরিসংখ্যানের তুলনায় লন্ডন সম্পর্কে মানুষের ধারণায় বড় ধরনের ভুল রয়েছে। এই ভুল ধারণা রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং রাজধানীকে ঘিরে ব্রিটিশ সমাজে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে

