ইংল্যান্ডে জুনিয়র ডাক্তারদের ঘোষিত চার দিনের ধর্মঘট শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন বেতন ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। এর ফলে সম্ভাব্য চিকিৎসা সংকট থেকে আপাতত রক্ষা পেল দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এনএইচএস এবং স্বস্তি ফিরে এসেছে লাখো রোগীর মধ্যে।
আগামী সোমবার সকাল ৭টা থেকে জুনিয়র ডাক্তারদের চার দিনের কর্মবিরতি শুরু হওয়ার কথা ছিল। ২০২৩ সাল থেকে এটি হতে যাচ্ছিল তাদের ১৬তম ধর্মঘট। তবে শেষ মুহূর্তে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় বিএমএ।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব জেমস মারে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রোগীদের স্বার্থে বিএমএর ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্বাগতযোগ্য। তার মতে, সরকার শুরু থেকেই চিকিৎসকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী ছিল এবং বর্তমান সমঝোতা সেই প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।
জেমস মারে আরও জানান, গত তিন বছরে রেসিডেন্ট ডাক্তারদের বেতন মোট ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরে আরও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুযোগ দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সম্ভব নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, চাকরির নিরাপত্তা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের দেওয়া নতুন প্রস্তাবে চাকরি, বেতন এবং পেশাগত অগ্রগতির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি কার্যকর হওয়ার আগে বিএমএর সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন নির্ভর করছে সামনের সারিতে দায়িত্ব পালন করা হাজারো চিকিৎসকের মতামতের ওপর।
এদিকে বিএমএর রেসিডেন্ট ডাক্তার কমিটির চেয়ারম্যান ডা. জ্যাক ফ্লেচার বলেন, আলোচনার বিষয়টি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গড়ানো উচিত হয়নি। তবে সরকার যখন তাদের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে, তখন চিকিৎসকরাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রধান দাবি ছিল একটি ন্যায্য প্রস্তাব, যা চিকিৎসকদের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বেতনের অবমূল্যায়ন দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ডা. ফ্লেচার আরও জানান, এখন হাজার হাজার রেসিডেন্ট ডাক্তার গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন, সরকারের এই প্রস্তাব তাদের প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মঘট স্থগিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এনএইচএসের ওপর চাপ কমবে এবং নির্ধারিত অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা সহজ হবে। তবে চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো, কর্মপরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না এলে ভবিষ্যতে নতুন করে অচলাবস্থার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সমঝোতা সরকার ও চিকিৎসকদের মধ্যকার সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিএমএর সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন কি না এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের স্থায়ী সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয় কি না।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

