3.5 C
London
March 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্কিলড কর্মী ভিসা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ধর্মীয় গোষ্ঠী ঘিরে অনুসন্ধান

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস চেশায়ারভিত্তিক একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভিবাসন ভিসা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্কিলড কর্মী ভিসার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক আনার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

তদন্তাধীন প্রতিষ্ঠানটি আহমদি রিলিজিয়ন অব পিস অ্যান্ড লাইট (এআরওপিএল) নামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। গোষ্ঠীটির নেতা আবদুল্লাহ হাশেম, যিনি অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে ব্যাপক অনুসারী গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার প্রায় শতাধিক অনুসারী ইংল্যান্ডের ক্রু শহরের একটি এতিমখানায় বসবাস করছেন।

জানা যায়, ২০২১ সালে সুইডেন থেকে সদর দপ্তর স্থানান্তরের পর গোষ্ঠীটি যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম শুরু করে। এর আগে সুইডেনে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে বহু সদস্যকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটও বর্তমান তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি ১২টি স্কিলড কর্মী ভিসা পেয়েছে। এসব ভিসা সাধারণত বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের নির্দিষ্ট কাজে নিয়োগের জন্য দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সদস্য ও কর্মীদের অভিবাসন সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া আইনসম্মত এবং তারা কোনো ধরনের তদন্তের বিষয়ে অবগত নয়। আইনজীবীদের মাধ্যমে তারা জানিয়েছে, ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র তাদের কাছে রয়েছে।

গোষ্ঠীটির কার্যক্রম মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক। অনলাইন ভিডিওর মাধ্যমে তারা তাদের মতবাদ প্রচার করে এবং বিশ্বব্যাপী অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। বিভিন্ন দেশে তাদের সদস্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যারা যুক্তরাজ্যে একসঙ্গে বসবাস করছেন।

এদিকে, সুইডেনের অভিবাসন আদালতের একাধিক রায়ে গোষ্ঠী-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনিয়মকারী নিয়োগকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওইসব রায়ের ভিত্তিতে অন্তত ৬৯ জন সদস্যকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও গোষ্ঠীটির দাবি, রায় কার্যকর হওয়ার আগেই তারা দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় গোষ্ঠীর আড়ালে ভিসা ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট নিয়ে লেবার সরকারে বিদ্রোহ

নিউজ ডেস্ক

লাল তালিকা থেকে মুক্তি পেলো ১১ দেশ

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ডাউনিং স্ট্রিটে বড় রদবদলঃ স্টারমারের দলে ব্লেয়ার আমলের অভিজ্ঞদের প্রত্যাবর্তন