17.8 C
London
May 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনের আগে সংকটে লেবার নেতৃত্ব, ফারাজের দলে বাড়ছে জনসমর্থন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার চান তিনি অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। একই সঙ্গে প্রায় সমান সংখ্যক মানুষ এখনই একটি সাধারণ নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

জরিপ অনুযায়ী, মাত্র পাঁচজনের একজনেরও কম মনে করেন স্টারমারের ক্ষমতায় থাকা উচিত। এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ভোট দেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটারও এখন তাকে সরে দাঁড়াতে বলছেন। এতে করে ক্ষমতাসীন দলটির ভেতরেও নেতৃত্ব নিয়ে অস্থিরতা বাড়ছে।

জেএল পার্টনার্স নামের একটি সংস্থার পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, সব বয়স ও অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যেই স্টারমারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেমস জনসন বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নিজস্ব ভোটারদের এত দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবি তোলার ঘটনা বিরল। তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্টারমারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে খারাপ ফল করলে তার নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে দলটির ভেতরেও এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, বর্তমান নেতৃত্বে আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।

একটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার প্রায় ১,৯০০ কাউন্সিলর হারাতে পারে, যা মোট আসনের বড় একটি অংশ। বিপরীতে রিফর্ম ইউকে প্রায় ২,২৬০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে গ্রিন পার্টি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস প্রায় ৪৫০টি আসনে এগিয়ে থাকতে পারে। কনজারভেটিভ পার্টিরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন দল ইতোমধ্যেই স্টারমারের জনপ্রিয়তা হ্রাসকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের প্রচারণার মূল স্লোগান—“রিফর্মকে ভোট দিন, স্টারমারকে সরান”—ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই তারা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চাইছে।

অন্যদিকে গ্রিন পার্টিও নিজেদের প্রচারণা জোরদার করেছে। জ্যাক পোলানস্কির নেতৃত্বে দলটি সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা লেবারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, স্টারমারের প্রতি জনমতের নেতিবাচক ধারা ক্রমেই বাড়ছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মনে করেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খারাপ কাজ করছেন। ৭৫ শতাংশের তার প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যেখানে ইতিবাচক মতামত মাত্র ১৮ শতাংশ।

বর্তমান ভোটের প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, রিফর্ম ইউকে এগিয়ে রয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে। এর পরেই রয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি, লেবার পার্টি, গ্রিন পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা। ফলে চারদিক থেকেই রাজনৈতিক চাপে পড়েছে লেবার।

এই পরিস্থিতিতে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মোট ৫ হাজারের বেশি কাউন্সিল আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে লন্ডনের সব বরো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ছয়টি মেয়র পদেও নির্বাচন হবে।

উল্লেখ্য, লেবার পার্টি শুরুতে কিছু নির্বাচন স্থগিত করার চেষ্টা করেছিল। তবে বিরোধী দলগুলোর চাপ এবং আইনি পদক্ষেপের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা।

সব মিলিয়ে, স্টারমারের নেতৃত্ব এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক এমপি

ভিন্ন দাবিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে হিন্দু ও খালিস্তানপন্থী শিখদের প্রতিবাদ\

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি আইনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্ববিদ্যালয়